স্থানীয় সময় রোববার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওবামা এসব কথা বলেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করার সাহস দেখানোয় একজন আইন মেনে চলা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের পুরো শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে সাম্প্রতিক তল্লাশির উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওবামা। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ২০ বছর আগের একটি কথিত অপরাধের প্রমাণ খুঁজে মামলাকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সিএনএনের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসনসংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে ওই তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ২০০০ সালে ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তাঁর বাবা বয়সসংক্রান্ত কোনো তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছিলেন কি না।
তবে ইলহান ওমর তদন্তের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ২০০০ সালে তিনি আইনগতভাবে দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেন।
ওবামা আরও বলেন, কোনো প্রেসিডেন্ট বা প্রশাসন যদি কাউকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের প্রকাশ্য পদক্ষেপ নিতে পারে, তাহলে তা সব আমেরিকানের জন্য উদ্বেগের বিষয়। ইলহান ওমরের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে কেউ একমত না হলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা যদি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়, তাহলে তা শুধু ইলহান ওমরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ভবিষ্যতে অন্য দলের প্রেসিডেন্টও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন।
এদিকে, মার্কিন সরকার এখন পর্যন্ত ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তাঁকে সোমালিয়ায় ফেরত পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি এবং বিচার বিভাগও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি। গত সপ্তাহে তাঁর বাড়িতে চালানো তল্লাশির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ফেডারেল এজেন্টদের জব্দ করা ব্যক্তিগত সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।
তল্লাশি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। ইলহান ওমর সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করলেও বিষয়টিকে বিচার বিভাগের এখতিয়ার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ওবামার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটিক দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা ইলহান ওমরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক নেতারা তল্লাশির ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
সূত্র: সিএনএন
মন্তব্য করুন