নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইনের পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস চলে গেলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তখন আমি মিস্টার ভেটো হয়ে যাব। আমি তাদের সবকিছু ধ্বংস করতে দেব না।’
তিনি জানান, ডেমোক্র্যাটদের পাঠানো প্রতিটি বিলে ভেটো দেবেন। এভাবে এক-দুই মাস সব বিলে ভেটো দেওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা বুঝতে পারবে যে এতে সময় নষ্ট হচ্ছে। তখন তারা আলোচনায় বসতে এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য হবে বলে মনে করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা বিভিন্ন বিল পাঠাবে। আপনি সেগুলোতে ভেটো দেবেন। এভাবে এক-দুই মাস সব বিলে ভেটো দেওয়ার পর তারা যখন দেখবে সময় নষ্ট হচ্ছে, তখন আলোচনায় আসবে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে।’
এ ধরনের সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অতীতেও আইন পাসের ক্ষেত্রে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।
তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, আমরা নির্বাচনে ভালো করব। তবে যদি জিততে না পারি, তাহলে সবকিছুতেই ভেটো দেব। শুধু ভেটো আর ভেটো।’
দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প মাত্র দুবার প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। আর প্রথম মেয়াদে তিনি মোট ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট অসম্মতি জানালে তাতে ভেটো দিতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো অগ্রাহ্য করে বিলটি আইনে পরিণত করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
সাক্ষাৎকারে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে আমি আবারও নির্বাচনে লড়তে চাই। কিন্তু সংবিধানের ভাষা এ বিষয়ে খুবই স্পষ্ট।’
মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারবেন না।
এদিকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দলটির আরও তিনটি আসন প্রয়োজন।
নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম কতটা সহজ হবে।
মন্তব্য করুন