যুগান্তরের অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক ঘণ্টা আগে রাজশাহী ছেড়ে সড়কপথে গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান শাহরিয়ার। পরে থাইল্যান্ড হয়ে রাশিয়ায় যাওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কলকাতার নিউটাউনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমে দেশে থেকে তার কাছে অর্থ পাঠানো হচ্ছে। তবে অর্থ পাঠানোর এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে বিদেশে তার রাজনৈতিক যোগাযোগ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রতিবেদনে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেগুলোরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে রাজশাহীর তিনটি থানায় চারটি মামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২৪ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা করে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহরিয়ারের ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৬০ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহরিয়ার আলম ২০১৯ সালের দিকে নাটোরের লালপুরের আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মর্ত্তুজা বাবুর মেয়ে সিলভিয়া পারভীন লেনিকে বিয়ে করেন। এটি ছিল তার দ্বিতীয় বিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রিত্বের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সিলভিয়ার মা রোকসানা মর্ত্তুজাকে ২০২১ সালে লালপুরের গোপালপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হতে সহায়তা করেন তিনি।
এ ছাড়া লালপুরে সিলভিয়ার জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি এবং ঢাকার গুলশানে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট করে দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহরিয়ার আলমের ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে রেনেসাঁ গ্রুপ, ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেড ও সাউথইস্ট টেক্সটাইলস লিমিটেড। তার অনুপস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেখভাল করছেন ব্যবসায়িক অংশীদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
রেনেসাঁ গ্রুপের পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদ প্রতিবেদককে বলেন, শাহরিয়ার আলম প্রতিষ্ঠানটির একজন শেয়ারহোল্ডার। তিনি বর্তমানে ব্যবসায় যুক্ত না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যরা ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস ও সাউথইস্ট টেক্সটাইলসের আর্থিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও শাহরিয়ারের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন নাঈমুল বাশার চৌধুরী। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, শাহরিয়ারের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও সম্পদ দেখভাল করছেন তার বাবা মো. শামসুদ্দিন, ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল এবং কয়েকজন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সহযোগী।
রাজশাহীতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, বাঘায় জমি অধিগ্রহণ এবং রাজশাহী ও ঢাকায় একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট কেনার তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ ছাড়া বাঘা, চারঘাট, লালপুর ও ঈশ্বরদী এলাকায় তার নামে বা বেনামে জমি থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
বাঘার ব্যবসায়ী গোলাম হোসেনের প্রায় ৪০ বিঘা জমি নামমাত্র মূল্যে জোরপূর্বক নেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ ও সম্পদের মালিকানা নিয়ে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও নথিপত্রের স্বাধীন যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
শাহরিয়ারের বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে বিদেশে তার জীবনযাপন, অর্থের উৎস এবং দেশে থাকা সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন