আজ শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, তাহসিফের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি করেছেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে।
এদিকে, দীপকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় মূল তদন্ত করছে নৌ পুলিশ।
নৌ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম বলেন, দীপকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পিবিআইয়ের তদন্ত এবং নৌ পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এর আগে গত শুক্রবার দীপকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআই। এ সময় বিভিন্ন তথ্য যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় নৌ পুলিশ মূল তদন্ত করছে। ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পিবিআই ছায়া তদন্তের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করেছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ অক্টোবর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। এ কারণে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা।
পরদিন শুক্রবার পিবিআইয়ের একটি দল দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায়। তুরাগ নদসংলগ্ন ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আশপাশে কী ঘটেছিল, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ ঘটনার রাতের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে দুজনের কথা বলার সময় কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করেন। ধাওয়াকারীদের মধ্যে দুজনের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন এবং একপর্যায়ে তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। অন্যদিকে তিনি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকে চলে যান।
তবে দীপের দেওয়া এসব বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন