আল-জাজিরা ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে দুটি এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে তারা।
এদিকে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ওয়াশিংটনের চালানো সীমিত সামরিক অভিযানের অংশ ছিল এই হামলা।
নিউইয়র্ক টাইমসকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাগুলো ছিল সীমিত পরিসরের। আপাতত সংঘাত আরও বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে আইআরজিসি হামলার চেষ্টা করে। এর জবাবে ইরানের কয়েকটি পরিত্যক্ত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় আইআরজিসি একটি মার্কিন ড্রোনও ভূপাতিত করেছিল।
অন্যদিকে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া বক্তব্যে এক মার্কিন কর্মকর্তা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে চালানো হামলাকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপ থেকে একটি মার্কিন বিমানের দিকে আইআরজিসি গুলি চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ইরানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র ধ্বংস করে।
এ ছাড়া নিউজ নেশনের এক সূত্র জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে ইরানের রাডার শনাক্তকরণব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের ঘটনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন