নিজস্ব প্রতিনিধি
৮ মার্চ ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ২০৩ জন

১৭বছর ধরে ঠিকাদার হিল্টন-হাফিজুরের কব্জায় প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন খাতে ‘ফ্যাসিবাদের অবসান’ নিয়ে জোরালো বক্তব্য এলেও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অধীন পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় সেই পুরনো প্রভাবশালী চক্রের আধিপত্য এখনো বহাল আছে—এমন অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে খোদ খাত-সংশ্লিষ্ট মহলে।
বিগত সময়ে গণমাধ্যমে একাধিকবার অভিযোগ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন—অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও কেন একই ঠিকাদার গোষ্ঠীকে ‘জামাই আদরে’ আগলে রাখা হলো? নতুন সরকারের আমলে কি বদল আসবে, নাকি পুরনো ধারাই বহাল থাকবে?
কারা এই প্রভাবশালী ঠিকাদার?
১. হিল্টন কুমার সাহা
অভিযোগ রয়েছে,আওয়ামী লীগের সাবেক মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী আঃ লতিফ বিশ্বাসের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রশাসনিক প্রভাব বলয় গড়ে তোলেন। খাত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে অন্তত ১৮টি জেলা এবং বিভিন্ন বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানে পশুখাদ্য সরবরাহের কাজ তার নিয়ন্ত্রণে।
প্রতিদ্বন্দ্বী সরবরাহকারীদের অভিযোগ—টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও প্রভাব খাটিয়ে একক আধিপত্য কায়েম করা হয়েছে। এমনকি সরকারি কর্মকর্তাদের একটি অংশ তাকে কাজ পাইয়ে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও কার্যকর কোনো তদন্ত দৃশ্যমান হয়নি।
২. মোঃ হাফিজুর রহমান
গত ১৭ বছর ধরে সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণী সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এ এককভাবে পশুখাদ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সমালোচকদের দাবি, তার কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রশ্ন তোলা হলেও তৎকালীন সচিব এবং বর্তমান মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক কার্যত নীরব থেকেছেন। কেন অভিযোগগুলো তদন্তের মুখ দেখেনি—সেই প্রশ্নও নতুন করে উঠছে।
টেন্ডার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ?
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বছরের পর বছর একচেটিয়া কাজ পাওয়ায় বাজারে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সরকার সম্ভাব্যভাবে বেশি দামে নিম্নমানের পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছে—যার প্রভাব পড়ছে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থায় ওপরও।
সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক। তাহলে কীভাবে একই গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখছে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
নতুন সরকারের সামনে তিনটি বড় প্রশ্ন
১. অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি?
২. বিগত দিনের অনিয়ম-দুর্নীতির আর্থিক নিরীক্ষা হবে কি?
৩. পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছ, ডিজিটাল ও প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো নিশ্চিত করা হবে কি?
জবাবদিহির সময় এখনই
প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অধীন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ফ্যাসিবাদী প্রভাবমুক্ত স্বচ্ছ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার প্রশ্নে নীরবতা মানে অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া—এমন মত সংশ্লিষ্টদের।
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মন্ত্রী, আমলা ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সামনে তাই স্পষ্ট এক সিদ্ধান্ত—
পুরনো প্রভাবশালী ঠিকাদারদের অব্যাহত সুবিধা, নাকি অতীতের অভিযোগের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা?
রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে এই প্রশ্নের জবাব এখনই প্রয়োজন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানীতে তিন বাসে আগুন, যাত্রাবাড়ীতে পরপর ৪ ককটেল বিস্ফোরণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ছয় মাসের সাফল্য’ নিয়ে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

ট্রাম্পের বৈঠকের তালিকায় নেই নেতানিয়াহু, অনিশ্চিত সাক্ষাৎ

আসিয়ান কাপে বড় কিছুর প্রত্যাশা জামালের, লক্ষ্য পরের রাউন্ড

আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা? রহস্য উদঘাটনের দাবি পুলিশের, দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

ঢাকাজুড়ে কড়া নজরদারি, চেকপোস্টে সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি

সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কর্মসূচিতে ঠাসা তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে নেই নির্দেশনা

১০

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ালেন ট্রাম্প

১১

‘বাইরের কেউ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ঠিক করে দিতে পারে না’: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১২

তিতাসের ২৮ নম্বর কূপে মিলবে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

১৩

গণভোটের রায় না মানলে এক দফার আন্দোলন’: মামুনুল হক

১৪

‘জাতির প্রয়োজনে আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে’: শফিকুর রহমান

১৫

টিসিবি কার্ড থেকে বাদ ৫৯ লাখ অযোগ্য সুবিধাভোগী

১৬

‘মানুষ যে ধরনের আইন চায়, সরকার সে ধরনের আইনই করবে’: আইনমন্ত্রী

১৭

‘শারীরিক ও মানসিক—সব দিক থেকেই প্রতারণার শিকার হয়েছি’: ঈশা রিখী

১৮

‘ছট মাইয়া’র গানের দৃশ্য দেখে পুরোহিত খুশি, জানালেন তামান্না

১৯

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হলেন আবুল খায়ের

২০