নিজস্ব প্রতিনিধি
৮ মার্চ ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১৫৫ জন

১৭বছর ধরে ঠিকাদার হিল্টন-হাফিজুরের কব্জায় প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন খাতে ‘ফ্যাসিবাদের অবসান’ নিয়ে জোরালো বক্তব্য এলেও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অধীন পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় সেই পুরনো প্রভাবশালী চক্রের আধিপত্য এখনো বহাল আছে—এমন অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে খোদ খাত-সংশ্লিষ্ট মহলে।
বিগত সময়ে গণমাধ্যমে একাধিকবার অভিযোগ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন—অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও কেন একই ঠিকাদার গোষ্ঠীকে ‘জামাই আদরে’ আগলে রাখা হলো? নতুন সরকারের আমলে কি বদল আসবে, নাকি পুরনো ধারাই বহাল থাকবে?
কারা এই প্রভাবশালী ঠিকাদার?
১. হিল্টন কুমার সাহা
অভিযোগ রয়েছে,আওয়ামী লীগের সাবেক মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী আঃ লতিফ বিশ্বাসের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রশাসনিক প্রভাব বলয় গড়ে তোলেন। খাত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে অন্তত ১৮টি জেলা এবং বিভিন্ন বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানে পশুখাদ্য সরবরাহের কাজ তার নিয়ন্ত্রণে।
প্রতিদ্বন্দ্বী সরবরাহকারীদের অভিযোগ—টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও প্রভাব খাটিয়ে একক আধিপত্য কায়েম করা হয়েছে। এমনকি সরকারি কর্মকর্তাদের একটি অংশ তাকে কাজ পাইয়ে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও কার্যকর কোনো তদন্ত দৃশ্যমান হয়নি।
২. মোঃ হাফিজুর রহমান
গত ১৭ বছর ধরে সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণী সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এ এককভাবে পশুখাদ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সমালোচকদের দাবি, তার কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রশ্ন তোলা হলেও তৎকালীন সচিব এবং বর্তমান মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক কার্যত নীরব থেকেছেন। কেন অভিযোগগুলো তদন্তের মুখ দেখেনি—সেই প্রশ্নও নতুন করে উঠছে।
টেন্ডার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ?
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বছরের পর বছর একচেটিয়া কাজ পাওয়ায় বাজারে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সরকার সম্ভাব্যভাবে বেশি দামে নিম্নমানের পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছে—যার প্রভাব পড়ছে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থায় ওপরও।
সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক। তাহলে কীভাবে একই গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখছে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
নতুন সরকারের সামনে তিনটি বড় প্রশ্ন
১. অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি?
২. বিগত দিনের অনিয়ম-দুর্নীতির আর্থিক নিরীক্ষা হবে কি?
৩. পশুখাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছ, ডিজিটাল ও প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো নিশ্চিত করা হবে কি?
জবাবদিহির সময় এখনই
প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অধীন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ফ্যাসিবাদী প্রভাবমুক্ত স্বচ্ছ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার প্রশ্নে নীরবতা মানে অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া—এমন মত সংশ্লিষ্টদের।
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মন্ত্রী, আমলা ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সামনে তাই স্পষ্ট এক সিদ্ধান্ত—
পুরনো প্রভাবশালী ঠিকাদারদের অব্যাহত সুবিধা, নাকি অতীতের অভিযোগের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা?
রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে এই প্রশ্নের জবাব এখনই প্রয়োজন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এক কর্মকর্তার হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, আইসিটি বিভাগে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে প্রশ্ন

গাজীপুরের পূবাইলে সাংবাদিকের পৈত্রিক জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

জবি বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যাত্রা শুরু, আহ্বায়ক দিদার, সদস্য সচিব রাতুল

বাড়তি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভ তাসনিম জারার, ‘হুমকি নয়, গ্রাহকদের জবাব দিন’

ইরানের প্রেসিডেন্টের ‘পদত্যাগ’ গুঞ্জন উড়িয়ে দিল তেহরান, ‘মিথ্যা’ বলছে প্রেসিডেন্টের দপ্তর

জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৬ আগস্ট থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জবিতে ছাত্রদল-জকসু-ছাত্রশক্তির সংঘর্ষ, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন

‘আমার বাসার বিদ্যুৎ বিলও অস্বাভাবিক বেড়েছে’: আজহারীর অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

সৌদি যুবরাজের কূটনৈতিক উদ্যোগে ইরানে নতুন হামলা স্থগিত ট্রাম্পের, আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো

১০

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ ঘিরে দেশজুড়ে র‌্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা: নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সাইবার পেট্রোলিং জোরদার

১১

বন্যাদুর্গত চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সফর ৯ আগস্ট: ত্রাণ বিতরণ ও ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি

১২

শতাধিক প্রাণহানির মধ্যেও ‘মার্চ টু ঢাকা’র প্রস্তুতি: রাজধানীমুখী জনস্রোতে আন্দোলনের চূড়ান্ত অধ্যায়

১৩

গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ২ ক্রু সদস্য

১৪

‘৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সক্ষমতা নেই আ. লীগের’, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

১৫

‘চীন সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু থাকবে’, ঢাকায় রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অঙ্গীকার

১৬

‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত মতিউরের বিরুদ্ধে চার্জগঠন, দুর্নীতি মামলায় বিচার শুরু

১৭

অভ্যুত্থানের পর প্রথমবার বিদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে সু চির সাক্ষাৎ, স্বাস্থ্য নিয়েও বাড়ছে নজর

১৮

অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে রোনালদো-জর্জিনা, মাদেইরায় বসছে জমকালো আয়োজন

১৯

হরমুজ ইস্যুতে আজ থেকেই নতুন দফার আলোচনা, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আপাতত স্থগিত: ট্রাম্প

২০