সোমবার (১২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি রোববার রাতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ছোট জাহাজ থেকে বড় ট্যাংকারে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহণের বিকল্প এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে কয়েক সপ্তাহ ধরেই হামলা চালাচ্ছে ইরান।
রেজায়ি বলেন, ‘আপনারা তেল চোরাচালান করছেন। কিন্তু প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে, আমরাই এটি পরিচালনা করি।’
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই তেহরান এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোয় আবার হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রেজায়ি।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কেবল, তথ্যকেন্দ্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোতে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ নৌপথ দিয়ে পরিবহণ করা হতো।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে ওমানের উপকূলসংলগ্ন পথ ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় ছোট জাহাজে করে তেল নিয়ে বড় ট্যাংকারে স্থানান্তর করা হয়। পরে বড় ট্যাংকারগুলো ওমান উপসাগর দিয়ে প্রণালির বাইরে চলে যায়।
ইরানের হামলা এড়াতে অনেক জাহাজ রাতে চলাচল করে এবং নিজেদের অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখে। তেল স্থানান্তরের পর কিছু জাহাজ আবার নতুন করে তেল সংগ্রহ করতে ফিরে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার রাত থেকে সোমবারের মধ্যে এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি থেকে বেরিয়ে যাওয়া দুটি ট্যাংকার এবং ওমানের সোহার বন্দরের কাছে নোঙর করা একটি জাহাজ রয়েছে। এর আগের সপ্তাহেও একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দাবি, সপ্তাহান্তে মাইনের আঘাতে তিনটি ট্যাংকার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় একটি জাহাজে আগুন লাগার ভিডিও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তবে ভিডিওতে সরাসরি মাইন বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়নি।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণ ও তেল সরবরাহের ওপর নতুন করে চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন