হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই রাশিয়া জানিয়েছিল, তারা নীতিগতভাবে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বিষয়ে বিশ্ব এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরুর মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটল। বুধবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ। এর আগের দিন নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, পুতিনের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে তাঁর আলোচনা হয়েছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে, পুতিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, আগামী ১০ নভেম্বরের দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে নতুন দফার ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হতে পারে। সংঘাতের অবসানের পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের নিরাপত্তাব্যবস্থা কীভাবে গড়ে তোলা হবে, আলোচনায় সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে অসলোতে আলোচনার সময় ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু প্রস্তাব মস্কোকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি বলে জানান উশাকভ।
অন্যদিকে, উইটকফ সর্বশেষ আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন। ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেওয়া কুশনার বলেন, সামনে এখনো কঠিন কাজ রয়েছে। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার কাঠামো গড়ে তোলার বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ইউক্রেনের পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত কমে আসার মধ্যে রাশিয়া হামলা জোরদার করে।
শান্তি আলোচনার নতুন উদ্যোগের মধ্যেও কিয়েভে রুশ হামলার ঘটনা যুদ্ধের অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন