অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে ধারাবাহিক মিছিলের পর নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন জোটের নেতারা। আন্দোলন জোরদার করতে বড় সমাবেশের পাশাপাশি একটি প্রতীকী সংসদ অধিবেশন আয়োজনের প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যাপক জনসমাগম এবং জ্ঞানেশ কুমারের অভিশংসন প্রক্রিয়া তুলে ধরে প্রতীকী সংসদ আয়োজনের প্রস্তাব রয়েছে।
কংগ্রেসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, এখনো পরবর্তী কর্মসূচির চূড়ান্ত পরিকল্পনা নির্ধারিত হয়নি। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এ নিয়ে কাজ করছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল আগেই জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
গত ৯ অক্টোবর বিরোধী নেতারা ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের দায়মুক্তি দেওয়া ২০২৩ সালের আইন বাতিল এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিতের দাবি জানান। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বেআইনিভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহালের দাবিও তোলেন তাঁরা।
বিরোধীদের এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁদের কাছে ভোট চুরির অভিযোগের প্রমাণ চান।
এরপর ১২ অক্টোবর রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করেন। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আবেদন জমা দেওয়ার লক্ষ্যেই ওই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।
আবেদনে কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ করেন, এসআইআর কার্যক্রম চলাকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার একতরফা ও স্বেচ্ছাচারীভাবে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষায় কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনার দাবিও জানান তাঁরা। তবে এসআইআরের সামগ্রিক বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিচার শুরুর দাবি করছেন না বলে আবেদনে উল্লেখ করেন আবেদনকারীরা।
এদিকে, ১ নভেম্বরের সমাবেশ সফল করতে কংগ্রেস ও জোটের শরিক দলগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে জোটের দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এম এ বেবি জানান, প্রস্তাবিত প্রতীকী সংসদে বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতিদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তুলে ধরে প্রতীকী বিচার আয়োজন করা হতে পারে।
বিরোধী জোটের নেতারা জানিয়েছেন, পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দিল্লির সমাবেশে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
মন্তব্য করুন