ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বক্তব্যে প্রকাশ রাজ বলেন, ভারতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই বর্তমান সরকারের পরিবর্তন আনা হবে। উত্তর প্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
দিল্লিতে প্রস্তাবিত ‘তিরঙ্গা মার্চের’ আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককে আটক করার পর এ বক্তব্য দেন প্রকাশ রাজ।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে সংগঠনটি।
প্রকাশ রাজ অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করায় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না, বরং শক্তি প্রয়োগ করছেন। এ কারণেই আপনারা আমাদের এই অবস্থানে ঠেলে দিয়েছেন।’
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের দাবিকে বিশৃঙ্খলা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোট দেওয়ার অধিকার নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার।
প্রকাশ রাজ বলেন, ‘আমরা সশস্ত্র নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের শক্তি হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।’
শুক্রবারের তিরঙ্গা মার্চের আগে বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হার ঘার তিরঙ্গা’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রকাশ রাজ প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নামতে চাওয়া তরুণদের বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন।
তিনি বলেন, ‘আমি মোদিজিকে জিজ্ঞাসা করছি, আপনাদের সেই “হার ঘার তিরঙ্গা” স্লোগানের কী হলো? এই দেশের তরুণেরা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে পথে নামতে চান।’
বিক্ষোভকারীদের, এমনকি নারীদের ওপরও পুলিশি সহিংসতার অভিযোগ করেন প্রকাশ রাজ। এ বিষয়ে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোকে সরব হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রকাশ রাজ আরও বলেন, নাগরিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন। এ আন্দোলনে কৃষক, সংযুক্ত কিষান মোর্চা ও বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠনের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে রাজপথে আরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে।
মন্তব্য করুন