রোববার অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) ডাকা বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের সময় এ ঘটনা ঘটে।
‘হিন্দুস্তান’-এর ২৭ বছর বয়সী প্রতিবেদক আশিস সিং জানান, বেলা আড়াইটার দিকে আরকে আশ্রম মার্গ এলাকায় বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করার সময় পুলিশ তাঁকে আটক করে। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে তিনি আহত হন বলে অভিযোগ করেন। গলায় সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র থাকলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে দাবি তাঁর।
আশিস বলেন, ‘আমি ক্যামেরায় আটকের ঘটনাগুলো ধারণ করছিলাম। এ সময় পুলিশ আমাকে ধাক্কা দিতে শুরু করে। তারা কোনো একটি ধারালো বস্তু দিয়ে আমাকে আঘাতও করে, সম্ভবত আঙুলে পরা বিশেষ ধরনের ধাতব বস্তু দিয়ে। আমি বারবার বলেছি, আমি হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদক। পরিচয়পত্রও দেখিয়েছি। কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি।’
পরে এক আলোকচিত্রীর সঙ্গে তাঁকে জোর করে একটি বাসে তোলা হয়। আশিসের দাবি, তিনি বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে দূরে ছিলেন এবং পুলিশের কাজে বাধা দেননি। তারপরও তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।
প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাসে থাকার পর সেটি মন্দির মার্গ এলাকায় পৌঁছালে তিনি ও অন্য সাংবাদিকেরা নেমে যান। আশিস বলেন, পুলিশ তাঁদের ফোন কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা তাঁর ছিল।
একটি জাতীয় সংবাদ সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলোকচিত্রী জানান, বিক্ষোভকারীদের আটকের ছবি তোলার সময় পুলিশ তাঁকেও আটক করে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রথমে পথচারীদের সরিয়ে দেয়, পরে সাংবাদিকদের আটক করতে শুরু করে।
তিনি বলেন, ‘হঠাৎ পুলিশ চিৎকার করে বলে, “ওকে ভেতরে নাও।” এরপর আমাকেও ধাক্কা দিয়ে বাসে তোলা হয়। আমার জিনিসপত্র কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হতে পারে—এই আশঙ্কায় মেমোরি কার্ড লুকিয়ে রাখি।’
আটক অন্য সাংবাদিকদের মধ্যে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস হিন্দি’র তিন প্রতিবেদক, ‘দ্য হিন্দু’র একজন প্রতিবেদক এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন ক্যামেরাপারসন রয়েছেন।
তবে সাংবাদিকদের আটকের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানায়, তাদের তিন সাংবাদিক শাশ্বত, সিয়া ও বিজয়কে কনট প্লেস এলাকা থেকে আটক করে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটকের স্থান থেকে স্টেডিয়ামটির দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার।
এদিকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ‘দ্য হিন্দু’র এক নারী প্রতিবেদককেও সাময়িকভাবে আটক করা হয়। তাঁকে ধাক্কা দিয়ে একটি বাসে তোলা হয়েছিল। তবে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কনট প্লেসে ওই প্রতিবেদক বলেন, ‘আমি নিজের ভিডিও ধারণ করছিলাম। এ সময় পুলিশ সদস্যরা এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে থাকেন, আমি কী করছি। এরপর তাঁরা আমাকে আটক করেন। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের কীভাবে আটক করা যায়?’
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
মন্তব্য করুন