হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে অচলাবস্থা নিরসনে আজ (সোমবার) থেকে নতুন দফার আলোচনা শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার কথাও ঘোষণা করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে আলোচনা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
এদিকে, ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে তারা। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, এই উদ্যোগের অর্থ আগের মতো পুরো প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ওমানের সঙ্গে এমন একটি সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে দুই দেশ, যা উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং নিরাপত্তাকে সম্মান করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের অবস্থায় ফিরবে না।’
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও জানিয়েছিলেন, ওমানের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী জাহাজের পাশেই বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, জাহাজ ও এর নাবিকরা নিরাপদে থাকলেও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা ধীর হয়ে গেলেও, একই সময়ে হুথিদের হুমকি উপেক্ষা করে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করেছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ সমঝোতা চূড়ান্ত করতে আরও কিছু সময় চেয়েছে। তার ভাষ্য, এই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দ্রুত ও সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক সংকটের সমাধান সম্ভব হতে পারে।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের অনুরোধে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার নির্দেশ আপাতত স্থগিত রেখেছেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনালাপের পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
ট্রাম্প বলেন, হামলার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চায়, কারণ সামরিক সংঘাতের পরিণতি অনিশ্চিত।
তিনি আরও জানান, সোমবার বিকেল থেকেই আলোচনা শুরু হবে, যদিও কোথায় এবং কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক হুমকির পরিবর্তে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নতুন কূটনৈতিক মোড় নিতে পারে।
মন্তব্য করুন