দেশের বিভিন্ন স্থানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সন্ত্রাস ও অপরাধ। তুচ্ছ ঘটনা, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও পুরোনো বিরোধের জেরে ঘটছে একের পর এক হত্যাকাণ্ড। কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে এক যুবককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের মধ্যেই ঢাকার কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে এক যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের পুরোনো বিরোধের যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ।
এর বাইরে চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত আড়াই বছরে প্রায় ৪০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাউজানেই ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রামের উত্তরের এই দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে এখন বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। ব্যবসায়ী, প্রবাসী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—কেউই সন্ত্রাসীদের হুমকি থেকে নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সন্ত্রাসীরা হোয়াটসঅ্যাপ, ভয়েস মেসেজ ও ফোনের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে দেওয়া হচ্ছে হত্যার হুমকি। কখনো কখনো অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে বাসাবাড়িতে গিয়ে গুলিবর্ষণ করেও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ খানের নির্দেশে তার অনুসারী ছোট সাজ্জাদ, ডেভিড ইমন, রায়হান, গলাকাটা মোবারক ও ধামা ইলিয়াছসহ একটি বড় গ্রুপ এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এরই মধ্যে ছোট সাজ্জাদ, ডেভিড ইমন, গলাকাটা মোবারক ও ধামা ইলিয়াছ গ্রেপ্তার হলেও রায়হান ও তার সহযোগীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রের দাবি, রায়হানকে ব্যবহার করেই সাজ্জাদ আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো ব্যবসায়ী ও প্রবাসী চাঁদার দাবিতে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় রায়হানসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী আত্মগোপনে গেলেও রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় নতুন নতুন সন্ত্রাসীর আনাগোনা বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দুই উপজেলায় সক্রিয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী বালু, মাটি, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। এসব অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক বাহিনীর সঙ্গে অন্য বাহিনীর বিরোধ থেকেই সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।
রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকায় ফজল হক বাহিনী, জসিম বাহিনী, কামাল বাহিনী ও জানে আলম বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। পশ্চিম গুজরায় রমজান বাহিনী এবং বাগোয়ান ইউনিয়নে মামুন বাহিনী ও ভূপেশ বাহিনীর দাপট রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পৌরসভাসহ উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে বিভিন্ন বাহিনীর উপবাহিনী গড়ে ওঠার কথাও জানিয়েছে সূত্র।
ফলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
মন্তব্য করুন