সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’, অভিনয়জীবন, ব্যক্তিগত উপলব্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন শুভ।
ওয়েব ফিল্মটি মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এক কথায় বলতে গেলে দারুণ।’ তাঁর মতে, সিনেমা হলের দর্শক সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানান, কিন্তু ওয়েবের দর্শক সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপে লেখালেখি হচ্ছে এবং বেশির ভাগই কাজটির প্রশংসা করছেন বলে জানান তিনি।
ওয়েব ফিল্মে আনিস চরিত্রে দেখা গেছে শুভকে। চরিত্রটিকে ঘরের নানা কাজ করতে হয়। বাস্তব জীবনে এসব কাজ কতটা পারেন—এমন প্রশ্নে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, রান্না খুব একটা জানেন না। তবে ডিম সিদ্ধ, ডিম ভাজি, চা, কফি ও নুডলস তৈরি করতে পারেন। শিগগিরই ভাত রান্নাও শিখে নেবেন বলে জানান তিনি।
নিজের জীবনদর্শনের পরিবর্তন নিয়ে শুভ বলেন, ২০২৪ সালে মাকে হারানোর পর জীবন সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি বদলে গেছে। জীবন যে খুব ছোট, তা গভীরভাবে বুঝতে পেরেছেন তিনি। কে কী বলল বা জীবনে কী পেলেন—এসব নিয়ে এখন আর অতটা ভাবেন না। তাঁর ভাষায়, ‘যেখানে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়, সেখানে এত গুরুগম্ভীর কেন থাকব? এখন আমি জীবনকে সহজভাবে নিতে শিখেছি। বাকি জীবনটা নিজের মতো করে বাঁচতে চাইছি।’
তবে এর অর্থ এই নয় যে, ভবিষ্যতে বিয়ে করতে চান না তিনি। শুভর মতে, মানুষ একা বাঁচতে পারে না; জীবনে একজন সঙ্গীর প্রয়োজন হয়। সেই সঙ্গী উপযুক্ত সময়ে জীবনে আসবেন—এমন বিশ্বাস নিয়েই চলছেন তিনি। তবে অন্য কারও ভাবনা অনুযায়ী নিজের জীবন গড়তে চান না।
কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও এখন খুব বেশি হিসাব-নিকাশ করেন না এই অভিনেতা। তাঁর ভাষায়, ভালো কাজের সুযোগ পেলে করবেন, না পেলে করবেন না। ২০০৪ সালে ফ্যাশন শো দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মডেলিং, রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা ও ওটিটিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে।
‘ছুঁয়ে দিলে মন’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘মিশন এক্সট্রিম’ ও ‘জ্যাজ সিটি’র মতো ভিন্নধর্মী কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শুভ জানান, নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
কোন সিনেমা দর্শক গ্রহণ করবেন, তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন বলেও মনে করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, অনেক প্রত্যাশা নিয়ে করা সিনেমাও কখনো দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না। আবার যে কাজ নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা থাকে, সেটিই দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত দর্শকের প্রতিক্রিয়াই একটি সিনেমার ভাগ্য নির্ধারণ করে।
মন্তব্য করুন