বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খল অভিনেতা ডন হককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে রোববার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে নেওয়ার আগে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
ডন জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তিনি পুনরায় পলাতক হতে পারেন—এমন আশঙ্কা জানিয়ে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমানের আবেদনে বলা হয়, ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পুনরায় পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তার জামিনের বিরোধিতা করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত ডন হককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ বাসায় রহস্যজনকভাবে মারা যান জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও জল্পনা চললেও পরে বিষয়টি নতুন করে তদন্তের আওতায় আসে।
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর আদালত ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের নির্দেশ দেন। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশের পর সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২০ অক্টোবর রমনা থানায় মামলা করেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। আগামী ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন—সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
১৯৯০-এর দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রে সালমান শাহ ছিলেন অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘দেনমোহর’ ও ‘তোমাকে চাই’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।
এরপর ‘বিক্ষোভ’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘বিচার হবে’, ‘জীবন সংসার’, ‘মহামিলন’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ ও ‘এই ঘর এই সংসার’-সহ একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন এই অভিনেতা।
মন্তব্য করুন