রোববার (১ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের শিল্প পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন। এদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করে আসছেন শ্রমিকরা। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরের পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের গাড়িসহ অন্তত ১৫টি যানবাহন ভাঙচুর করেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ পর্যন্ত অন্তত ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
রোববার সকালেও একই দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোনাবাড়ী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল থেকে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দফায় দফায় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। আতঙ্কে আশপাশের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং কাঠ ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওপর থাকা একটি পুলিশ বক্সেও আগুন দেওয়া হয়।
কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বলেন, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় মহাসড়কের মাঝখানে থাকা একটি পুলিশ বক্সে আগুন দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ বক্সের মালামাল বাইরে বের করে সেগুলোতেও আগুন দেওয়া হয়।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূইয়া বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকায় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিজিবি সদস্যের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
মন্তব্য করুন