ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টায় প্রতিবাদ করাই কি কাল হলো গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য রাজুর? পিরোজপুরের নেছারাবাদে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত আনিস তালুকদার ও মিরাজের বিরুদ্ধে। আহত রাজু বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
গত ২৯ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সুটিয়াকাঠী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুটিয়াকাঠী এলাকায় ক্রয়কৃত একটি জমি জোরপূর্বক দখল এবং সেখানে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় জমির মালিকপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানিয়ে বাধা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য রাজুসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।
পুলিশ চলে যাওয়ার পর মারধরের অভিযোগ
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, পুলিশ ও অন্যান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আনিস তালুকদার ও মিরাজের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি রাজুকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে মারধর করেন।
এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হত্যাচেষ্টা মামলা দায়েরের উদ্যোগ
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, জমি দখলের চেষ্টায় বাধা দেওয়ার কারণেই রাজুর ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত আনিস তালুকদার ও মিরাজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আইনের আওতায় বিচারের দাবি
একটি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রাজনৈতিক সংগঠনের একজন কেন্দ্রীয় নেতার ওপর হামলার অভিযোগ এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় হওয়াই প্রত্যাশিত। কোনো পক্ষেরই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এ ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয় এবং ভুক্তভোগী পক্ষ ন্যায়বিচার পায় কি না।
মন্তব্য করুন