শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইউরোপের মিত্র দেশ ও কানাডার অর্থায়নে এই ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করা হবে। ফলে এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।
এদিকে, দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রাণঘাতী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে প্যাট্রিয়টই ইউক্রেনের একমাত্র কার্যকর অস্ত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও তিনি বলেন, ইউক্রেনের এখনই এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই বিক্রির মাধ্যমে ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি অংশীদার দেশের নিরাপত্তা জোরদার হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যও এগিয়ে যাবে।
কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদানের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সহায়তা ঋণের অর্থ দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কেনা হবে। এ চুক্তির প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকবে মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা লকহিড মার্টিন।
চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল। এরপর ট্রাম্প মন্তব্য করেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে পৌঁছাতে ইউক্রেনের নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন।
তবে গত ২০ অক্টোবর অসলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে।
এদিকে, জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মধ্যে প্রতিবাদ দেখা গেছে। আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার সময় কয়েকজন ইউরোপীয় কূটনীতিক দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আয়োজনে আটলান্টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনে আগ্রাসন ও বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগ তোলেন।
জেলেনস্কি জানান, শীত সামনে রেখে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। গত দুই সপ্তাহে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ৩০টির বেশি হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এ পরিস্থিতিতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
তবে বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট থাকায় দ্রুত সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ব্যবহারের কারণেও এই সংকট বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বছরে প্রায় ৬০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হয়। এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যমান মজুত থেকে নয়, বরং নতুন করে উৎপাদিত ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে সরবরাহ করা হবে। ফলে অনুমোদন পেলেও যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলো পৌঁছাতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এর আগে ক্রিমিয়া এবং পূর্বাঞ্চলের দনবাসের কিছু এলাকা দখল করেছিল দেশটি।
মন্তব্য করুন