রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে মামুনুল হক উল্লেখ করেন, গুরুতর অপরাধের অভিযোগের ক্ষেত্রে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে অভিযোগের পক্ষে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি। তাঁর মতে, সন্দেহ বা দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
শিশুর মনস্তত্ত্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শিশুদের বক্তব্য ও অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পাশাপাশি যথাযথভাবে যাচাই করাও প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী না হয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে।
মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে মামুনুল হক দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। তাঁর মতে, এসব ঘটনা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা ও রাজনৈতিক বিভাজনের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সুরক্ষা জোরদার করতে হবে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, আলেম সমাজ, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করা যায় এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
টঙ্গীর ঘটনা প্রসঙ্গে মামুনুল হকের মূল বক্তব্য হলো— শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি এবং নিরপরাধ ব্যক্তির অধিকার রক্ষা—সবকিছুই ন্যায়বিচারের অংশ। একই সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক বিভাজন ও সংঘাত এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, টঙ্গীর ওই মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন