নতুন বইগুলো হলো—চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) অনুমোদনের পর বইগুলো মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে। চারটি বইয়ের প্রায় দেড় কোটি কপি মুদ্রণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সুনাগরিকের গুণাবলি গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, নতুন চারটি পাঠ্যবইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এনসিসির অনুমোদনের পর বইগুলোর বিষয়বস্তু মুদ্রণের জন্য প্রেসে পাঠানো হবে।
চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি ১৪টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো, সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করা এবং খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরিই এর মূল লক্ষ্য। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবার পাশাপাশি কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো আত্মরক্ষার কৌশল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া খেলাধুলার সময় আঘাত পাওয়া, মচকানো, নাক দিয়ে রক্ত পড়া কিংবা হিট স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতিতে করণীয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। পুষ্টি, সামাজিক দক্ষতা ও দেশপ্রেমের মতো বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বইটিতে।
অন্যদিকে, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটি ১১টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। এতে দেশের ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাদ্যসংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও জীবনধারা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের উৎসব, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পিঠা-পুলি এবং পারিবারিক সহযোগিতার মতো বিষয়ও স্থান পেয়েছে।
বইটিতে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি’র ইতিহাস, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ এবং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের ছবি যুক্ত করার কথাও জানিয়েছে এনসিটিবি।
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি ছয়টি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। পড়াশোনাকে ভীতিমুক্ত ও আনন্দময় করে তোলা এর মূল উদ্দেশ্য। প্রচলিত মুখস্থবিদ্যার বাইরে অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের পদ্ধতি এতে তুলে ধরা হয়েছে।
বইটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা, পারস্পরিক সম্পর্ক ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ পাবে। এতে পড়াশোনার চাপ কমিয়ে শেখার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইটি আটটি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং হাতে-কলমে কাজ শেখার অভ্যাস গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য।
বইটিতে কারিগরি শিক্ষার পরিচিতি, দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার, ছোট উদ্যোগের সম্ভাবনা, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বাস্তব জীবনে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা ও সমাধানের প্রাথমিক দক্ষতাও অর্জন করতে পারবে।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানান, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি বইয়ের মুদ্রণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
মাহ্দী আমিন আরও জানান, ভবিষ্যতে চতুর্থ শ্রেণিতে চালু হতে যাওয়া খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয় দুটি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও কারিগরি শিক্ষা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বইগুলো শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার বাইরে এনে আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
মন্তব্য করুন