ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা ১০টি মরদেহের মধ্যে ছয়টি পাওয়া গেছে একটি কক্ষে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। বাকি চারটি মরদেহ পাওয়া যায় ওয়াশরুমে। আগুন থেকে বাঁচতে তাঁরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, টানা সাত ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর রাত ২টা ৪০ মিনিটে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করে অভিযান শেষ করা হয়।
তিনি জানান, রিসোর্ট ভবনে কাঠসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভেতরে থাকা অতিথিরা বের হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাননি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মরদেহগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে রিসোর্টটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে একই পরিবারের নয়জন অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন। চিকিৎসার সুবিধার্থে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চারজনকে উড়োজাহাজে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু আব্দুল্লাহ জানান, রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া অতিথি তালিকা অনুযায়ী, সেখানে ১৮ জন অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন সকালে হাঁটতে বের হওয়ায় নিরাপদে ছিলেন। সাতজন চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং নয়জনকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
তবে ঘটনাস্থল থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের পরিচয় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তালিকার সঙ্গে মেলেনি। এ কারণে নিহতদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন