নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার এবং ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন ‘ককরোজ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আন্দোলনের নেতারা। তবে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। পদত্যাগের দাবি নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি জ্ঞানেশ কুমার।
পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও যান চলাচলের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা নূপুর প্রসাদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী যন্তর মন্তরে কর্মসূচি আয়োজন করতে হলে নির্ধারিত তারিখের অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করতে হয়। অতীতে দেওয়া আইনসম্মত নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগও তিনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে তোলেন।
তবে পুলিশের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, সমাবেশের বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করাই যথেষ্ট; কর্মসূচি আয়োজনের জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
বিক্ষোভে অনড় আন্দোলনের নেতারা
অনুমতি না পেলেও শনিবার সকালে যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কারাবন্দি করা কিংবা গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেও তারা প্রস্তুত।
অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন চলতি বছরের গ্রীষ্মে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ওই আন্দোলনের মুখে জুলাইয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
গত সপ্তাহে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ে সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরুতেও বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দিল্লিতে চলমান কর্মসূচিতে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি কৃষক ও ছাত্রসংগঠনগুলোর সমর্থন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক
বিক্ষোভের মূল ইস্যু ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে দ্বৈত নিবন্ধন ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের তথ্যমতে, এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে বিরোধী দল ও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে অনেক প্রকৃত ও যোগ্য ভোটার রয়েছেন। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন উভয়েই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিরোধ আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার থেকে টানা তিন দিন দিল্লিতে এ নিয়ে বিক্ষোভ করেন বিরোধী নেতা ও সংসদ সদস্যরা। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এ সময় বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীকে পুলিশ জোর করে বাসে তোলার চেষ্টা করছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাসের জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেওয়া হয় বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অভিযোগ, বিক্ষোভের অনুমতি প্রত্যাখ্যান এবং বিরোধী নেতাদের কর্মসূচিতে পুলিশের হস্তক্ষেপ—সব মিলিয়ে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। শনিবারের বিক্ষোভকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
ম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: প্রকাশের আগে সিজেপির নাম, আন্দোলনের পরিচয়, ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার দাবি এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনাগুলো নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করে নেবেন।
মন্তব্য করুন