৩৯ বছর বয়সী মেসি এখন মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) সর্বোচ্চ গোলদাতা। চলতি মৌসুমে তাঁর গোলসংখ্যা ২৫। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এফসি ডালাসের ক্রোয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড পেতার মুসা ও ফিলাডেলফিয়ার মিলান ইলোস্কির চেয়ে ছয় গোল এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
গত জুলাইয়ে একই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল মেসির আর্জেন্টিনা। এবার সেই মাঠেই নিজের নৈপুণ্যে মায়ামিকে জয় এনে দিলেন তিনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ৪৫ মিনিটে জার্মান বেরতেরামের গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি। বিরতির ঠিক আগে মেসির হেড থেকে বল পেয়ে লুইস সুয়ারেজ প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে বল বাড়িয়ে দেন। সেখান থেকে হেডে গোল করেন বেরতেরামে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। বেরতেরামের কাছ থেকে বল পেয়ে আটলান্টার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের কাটিয়ে বক্সের মাঝখান থেকে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
এর মাত্র চার মিনিট পর আবারও গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সুয়ারেজের বাড়ানো বল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান মেসি। এরপর আটলান্টার ডিফেন্ডার জুনিয়র আলোনসোকে পরাস্ত করে গোলরক্ষক লুকাস হয়োসকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
ম্যাচের ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেন ফাফা পিকো। তবে তাতে হার এড়াতে পারেনি আটলান্টা। ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকার নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটির প্লে-অফে ওঠার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, বুধবারই প্লে-অফ নিশ্চিত করা মায়ামি গত মাসে দায়িত্ব নেওয়া কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গনসালেসের অধীনে টানা তৃতীয় জয় পেয়েছে।
আর্জেন্টিনার হয়ে আবেগঘন বিদায়ী ম্যাচ খেলার পর তিন ম্যাচে চারটি গোল করেছেন মেসি। সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এই ম্যাচে একটি গোলে সহায়তা করে এলএএফসির সন হিউং-মিনের সঙ্গে যৌথভাবে অ্যাসিস্টের তালিকার শীর্ষে উঠেছেন তিনি। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিন মৌসুমে অন্তত ১৫টি করে গোলে সহায়তা করার কীর্তিও গড়েছেন মেসি।
এদিকে, মিনেসোটার কাছে ৩-২ গোলে হেরে গেছে সেন্ট লুইস সিটি। এর মধ্য দিয়ে এমএলএসে দলটির টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডেরও অবসান হয়েছে। একই রেকর্ড রয়েছে কলম্বাস, ডালাস ও ইন্টার মায়ামির।
ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফায়েল নাভারো ও দক্ষিণ কোরীয় উইঙ্গার জং সাং-বিনের গোলে এগিয়ে যায় সেন্ট লুইস। তবে ৪৯ মিনিটে আজিয়েল জ্যাকসনের গোলে ব্যবধান কমায় মিনেসোটা। ৬৮ মিনিটে কেলভিন ইয়েবোয়া সমতা ফেরান। এরপর ৮৬ মিনিটে কানাডিয়ান মার্কাস কালদেইরার গোলে জয় নিশ্চিত করে মিনেসোটা।
২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো প্লে-অফে ওঠা নিশ্চিত করেছে সেন্ট লুইস। তবে এমএলএসে টানা অপরাজিত থাকার রেকর্ড এককভাবে নিজেদের করে নেওয়ার সুযোগ হারিয়েছে দলটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ২১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার ক্লাব রেকর্ডও ভেঙে গেছে তাদের।
গত ৩ মে অস্টিনের কাছে ২-০ গোলে হারের পর এমএলএসে আর হারেনি সেন্ট লুইস। এরপর ১৩টি জয় ও ছয়টি ড্র নিয়ে এগিয়ে চলেছিল দলটি।
অন্যদিকে, শার্লটের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে ফিলাডেলফিয়া। এতে তাদের টানা অপরাজিত থাকার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ ম্যাচে। এর আগে টানা আট ম্যাচে জিতেছিল দলটি।
গত ২৪ মে মায়ামির কাছে ৬-৪ গোলে হারের পর থেকে দারুণ ছন্দে রয়েছে ফিলাডেলফিয়া। ওই হারের পর ১২টি জয় ও তিনটি ড্র করেছে তারা। বিশ্বকাপ বিরতির সময় রায়ান রিখটার অন্তর্বর্তী কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্ভাব্য ৪৫ পয়েন্টের মধ্যে ৩৯ পয়েন্ট অর্জন করেছে দলটি। শার্লটের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ড্র করলেও তাদের অপরাজিত থাকার দৌড় থামেনি।
মন্তব্য করুন