শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রশ্ন তোলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর হাতে সংবাদপত্র ছেঁড়ার দৃশ্য আমাদের কী বার্তা দেয়?’
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, সংবাদপত্রের কোনো প্রতিবেদন পছন্দ না হলে তার প্রতিবাদ করার অধিকার সবার রয়েছে। প্রতিবেদন ভুল হলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তা খণ্ডন করা, প্রতিবাদলিপি পাঠানো কিংবা প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ফেসবুক লাইভে এসে দৈনিক আমার দেশ-এর কপি ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য কোনোভাবেই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের উদাহরণ নয়।
রাশেদ খাঁনের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, সংবাদপত্র, সম্পাদক কিংবা কোনো প্রতিবেদনের সঙ্গে মতপার্থক্য ও বিরোধ থাকতেই পারে। তবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও সংযম, পরিশীলিত আচরণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা প্রত্যাশিত।
তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, আবার সরকারও সংবাদমাধ্যমের ঊর্ধ্বে নয়। সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি সরকারেরও সমালোচনা সহ্য করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভাষ্য, রাষ্ট্রের শক্তি সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার মধ্যে নয়; বরং সংবাদপত্রে প্রকাশিত সমালোচনার জবাব তথ্য, যুক্তি ও সত্য দিয়ে দেওয়ার সক্ষমতার মধ্যে।
তিনি আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করা হয়েছে, যেখানে ক্ষমতাবানদের সমালোচনা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে না এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের আচরণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর এ আচরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বশীল অবস্থান স্পষ্ট করারও আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা।
মন্তব্য করুন