লম্বা ছুটির সুযোগে কর্মব্যস্ত নগরজীবন পেছনে ফেলে আপনজনের কাছে ফিরছেন মানুষ। কারও হাতে ব্যাগ, কেউ আবার পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নিয়ে ছুটছেন গন্তব্যের পথে। সবার চোখেমুখে উৎসবের আনন্দ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রত্যাশা।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবরের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মঙ্গলবার থেকে শনিবার (২০-২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের অবকাশ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই আগেভাগে রাজধানী ছাড়ছেন। ফলে ছুটি শুরুর আগেই বিভিন্ন গণপরিবহনকেন্দ্রে ঘরমুখো মানুষের আনাগোনা বেড়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি যাত্রীর উপস্থিতি দেখা যায়। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চগুলোতে ছিল বাড়ি ফেরার তাড়া। কর্মসূত্রে ঢাকায় বসবাসকারী অনেকেই ছুটি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে পূজার সময় কাটাতে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন।
রাজধানীর আরামবাগে কুমিল্লাগামী তিশা প্লাস বাস কাউন্টারেও যাত্রীদের বাড়তি চাপ দেখা গেছে। কাউন্টারে কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় সেদিন যাত্রীর চাপ অনেক বেশি ছিল। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। তবে যাত্রীদের চাপ বাড়লেও আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে কমলাপুর রেলস্টেশনেও দেখা গেছে ঘরমুখো যাত্রীদের বাড়তি উপস্থিতি। হাতে ব্যাগ, সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নিয়ে ট্রেন ধরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন অনেকে। দীর্ঘ ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন তাঁরা, যাতে পূজার দিনগুলো স্বজনদের সঙ্গে কাটাতে পারেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং পরিচিত পরিবেশে সময় কাটানোরও উপলক্ষ। কর্মসূত্রে রাজধানীতে বসবাসকারী অনেকেই সারা বছর এমন ছুটির অপেক্ষায় থাকেন। মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটানো, পরিবারের পূজার প্রস্তুতিতে অংশ নেওয়া কিংবা শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত পরিবেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাঁদের ঘরে ফেরার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ছুটিকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের চাপ বাড়ায় গণপরিবহনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানীর কর্মব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে মানুষ ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। কেউ ফিরছেন গ্রামের বাড়িতে, কেউ যাচ্ছেন আত্মীয়স্বজনের কাছে। উৎসবের আনন্দ, পরিবারের সান্নিধ্য আর আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রত্যাশায় এই ঘরে ফেরা যেন কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাত্রা নয়, বরং শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়া এবং সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করার এক আবেগঘন উপলক্ষ।
মন্তব্য করুন