রোববার (১ নভেম্বর) পরিচালিত এ অভিযানে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় মেসার্স এমআর ট্রেডার্সের গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৫ মেট্রিক টন কেমিক্যালের মজুদ দেখাতে না পারায় সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে অধিদপ্তর।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযানকালে মেসার্স এমআর ট্রেডার্সের গুদামে সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটসহ প্রায় ৮১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল পাওয়া যায়। তবে এসব পণ্য ক্রয়, আমদানি কিংবা বৈধভাবে মজুদ রাখার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরে মজুদ করা পণ্যসহ গুদামটি সিলগালা করা হয়।
অন্যদিকে, সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডেও অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দা দল। প্রতিষ্ঠানটি গত ১৭ অক্টোবর ভারত থেকে বন্ড সুবিধায় ৪৫ মেট্রিক টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট আমদানি করে। কিন্তু সরেজমিনে ওই কেমিক্যালের কোনো মজুদ দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
বন্ড সুবিধায় আমদানি করা এসব কেমিক্যাল উৎপাদনকাজে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে বিক্রি বা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একদিকে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কেমিক্যালের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের গুদামে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল মিললেও সেগুলোর বৈধ কাগজপত্র নেই। এ দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
জব্দ করা কেমিক্যালের প্রকৃত উৎস, আমদানি ও কেনাবেচার তথ্য, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং এর মাধ্যমে সরকারের কী পরিমাণ শুল্ক-কর ফাঁকি হয়েছে, তা নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্কমুক্ত কাঁচামালের অবৈধ বাজারজাতকরণ এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন