ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। মধ্যাহ্নবিরতির আট মিনিট আগে টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তিনি।
বাংলাদেশের হয়ে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন লিটন দাস। ওয়ারিকানের পাশাপাশি অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা বাঁহাতি স্পিনার জশুয়া বিশপ নেন ২ উইকেট। শামার জোসেফের শিকারও ২ উইকেট।
প্রথম দিন শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা সাদমান ইসলাম দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় বলেই টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। লেগ সাইডে বল ঠেলে দুই রান নিয়ে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তিনি।
এরপর ওয়ারিকানকে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে চার মারলেও শেষ পর্যন্ত জশুয়া বিশপের বলে আউট হন এই ওপেনার। বাঁহাতি স্পিনারের ঘূর্ণি সামলাতে ব্যর্থ হয়ে ব্যাট-প্যাডের সামনে বল হারান তিনি। ২৩৪ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ১০৫ রান করেন সাদমান। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। বিশপের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শিকার হন এই ওপেনার।
সাদমান ফেরার পরপরই জশুয়া বিশপের বলে উইকেট হারান তাওহিদ হৃদয়। প্রথম দিন পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছেড়ে যাওয়া হৃদয় দ্বিতীয় সকালে ব্যাটিংয়ে ফিরলেও মাত্র দুই বল টিকতে পারেন। আগের দিনের ৪২ রানেই থামে তাঁর ইনিংস।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে বিশপকে দুটি চার মারেন। তবে জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে বল স্টাম্পে আঘাত করলে বিদায় নিতে হয় তাঁকে।
এরপর শামার জোসেফের বোলিংয়ে আরও বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৫ রানে ফেরেন নাঈম হাসান। পরে ৬ রান করা হাসান মাহমুদকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন জোসেফ।
এরপর টানা দুই বলে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ওয়ারিকান। শেষ পাঁচ উইকেটের পতন ঘটে মাত্র ১৯ রানের ব্যবধানে।
প্রথম দিনেও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে দ্রুত তিনটি উইকেট পড়েছিল। তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত ফিরে গেলে সাদমান ও তাওহিদ হৃদয় ৮৮ রানের জুটি গড়ে দলকে সামাল দেন। তবে হৃদয়ের চোটের কারণে মাঠ ছেড়ে যাওয়া এবং দ্বিতীয় দিনে তাঁর দ্রুত বিদায়ের পর আর বড় জুটি গড়তে পারেনি বাংলাদেশ।
ফলে সাদমানের শতকের পরও ২৭২ রানে থামতে হয় স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস।
মন্তব্য করুন