পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সচেতন নাগরিক, ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছে বাংলাদেশ মানববন্ধু সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি। এডিস মশার বিস্তার রোধ ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, লিফলেট বিতরণ এবং প্রতিরোধমূলক করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ি এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘হাত বাড়াই মানবতার টানে’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ উদ্যোগে সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।

প্রচারণাকালে সংগঠনের সদস্যরা এলাকাবাসীর হাতে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক লিফলেট তুলে দেন। পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার বিভিন্ন উপায় তুলে ধরেন তাঁরা।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, প্রয়োজন পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, আঙিনা কিংবা আশপাশের কোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে। তাই ফুলের টব, টবের নিচের প্লেট, বালতি, ড্রাম ও পরিত্যক্ত টায়ার নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। ছোট ছোট সচেতনতামূলক পদক্ষেপই মশার বংশবিস্তার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ মানববন্ধু সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সভাপতি সূর্য আহমেদ মিঠুন বলেন, “ডেঙ্গু একটি মারাত্মক মশাবাহিত রোগ। তবে আগাম সতর্কতা ও সচেতনতার মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। মানুষকে সচেতন করা এবং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই আমাদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। প্রত্যেকে নিজের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সচেতন করলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সম্রাট বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, সেদিকেও নজর দিতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মশার বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সিনিয়র সহসভাপতি মো. বশির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর ভোগান্তির মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাড়ির আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
কার্যনির্বাহী সদস্য ভূঁইয়া কাজল বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হলে এবং অন্যদের সচেতন করতে এগিয়ে এলে এ রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।

প্রচারণায় দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে উপযুক্ত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার, জানালায় নেট লাগানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ডেঙ্গু সন্দেহ হলে চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়া ওষুধ গ্রহণ না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা সানোয়ার খান ও বাবু, শিক্ষা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মো. মোক্তার হোসেন, অর্থ সম্পাদক মো. সোলায়মানসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি বাংলাদেশ মানববন্ধু সংগঠনের কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করার অংশ হিসেবেই এ প্রচারণার আয়োজন করা হয়েছে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।
সচেতন নাগরিক, নিরাপদ পরিবার, ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ। আসুন, নিজের বাড়ি ও আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখি, কোথাও পানি জমতে না দিই এবং অন্যকেও সচেতন করি। সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠুক মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ।
মন্তব্য করুন