গত দুই বছরে দেশের বাইরে ১৬টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জয় এসেছে মাত্র দুটিতে, হার ১৪ ম্যাচে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা পাঁচ পরাজয়ও রয়েছে এই তালিকায়। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের সর্বশেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে সাত উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে আফগানিস্তান। একই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দলটি।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের হৃদয় বলেন, “সত্যি বলতে, আমরা কথার সঙ্গে কাজের মিল ঘটাতে পারিনি।”
দেশের বাইরে দলের পারফরম্যান্সের দুর্বলতা স্বীকার করে তিনি বলেন, “দেশের বাইরে আমরা ভালো করছি না—এ কথার সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত। প্রায় দেড় বছর ধরে এমনটা চলছে। আমার মনে হয়, বাইরের পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং ম্যাচ ও পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী খেলতে পারা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মুখে বললে হবে না, মাঠেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।”
দেশের মাটিতে বড় দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন হৃদয়। তাঁর মতে, এক-দুটি ম্যাচ বা সিরিজ দিয়ে পুরো দলকে বিচার করা ঠিক নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে ব্যাটিং বিভাগের ধারাবাহিক ব্যর্থতা দলকে চাপে ফেলেছে।
হৃদয় বলেন, “এই একই দল বড় দলগুলোকে হারিয়েছে। দেশের মাটিতে আমরা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারিয়েছি। এক-দুটি ম্যাচ কিংবা একটি-দুটি সিরিজের ভিত্তিতে পুরো দলকে বিচার করতে চাই না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে খেলা ম্যাচগুলোতে আমাদের ব্যাটিং বিভাগ ধারাবাহিকভাবে খুব বাজে পারফরম্যান্স করেছে। এ কারণেই পুরো দলকে ভুগতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের মাটিতে ব্যাটসম্যানরা প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই ভালো করেছেন। তাই বিদেশের মাটিতে ভালো করতে হলে দলের কিছু জায়গায় উন্নতি আনতে হবে।
হৃদয়ের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হতে হলে মানসিকতা ও পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে উন্নতি জরুরি। রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেললে এই পর্যায়ে ভালো করা কঠিন বলেও মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বলেন, “সমস্যাটা অবশ্যই মানসিকতার। আমার মনে হয়, এ ক্ষেত্রে আমাদের আরও উন্নতির সুযোগ আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেললে সফল হওয়া খুব কঠিন। পুরো দল, বিশেষ করে ব্যাটিং বিভাগ যখন একসঙ্গে ভেঙে পড়ে এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারে না, তখন বুঝতে হবে আমাদের আরও ভালো পরিকল্পনা প্রয়োজন।”
ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী দায়িত্ব নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন হৃদয়। তাঁর ভাষ্য, শুরুতেই উইকেট পড়ে গেলে কিংবা একের পর এক ব্যাটসম্যান আউট হলে দলকে সামলে নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে একজন বা দুজন খেলোয়াড়কে দায়িত্ব নিয়ে দলকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে হবে।
দলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ব্যতিক্রমী খেলোয়াড়ের ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। হৃদয়ের মতে, প্রতিটি দলে এমন কয়েকজন ক্রিকেটার থাকেন, যারা কঠিন পরিস্থিতিতেও দলকে এগিয়ে নেওয়ার বিশ্বাস রাখেন। বাংলাদেশের দলেও এই জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
আফগানিস্তানের কাছে হারের পর হৃদয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ওয়ানডে পারফরম্যান্স উন্নত করতে শুধু আত্মবিশ্বাস নয়, ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা, কার্যকর পরিকল্পনা ও চাপের মধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
মন্তব্য করুন