তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়েকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সিকান্দার রাজার নেতৃত্বাধীন দলটি অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তরুণকে নিয়ে শক্তিশালী দল গড়েছে। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হারলেও শেষ ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল তারা। মাত্র এক উইকেটের ব্যবধানে হেরেছিল স্বাগতিকরা।
চোটের কারণে রিচার্ড নাগারাভা দলে না থাকায় জিম্বাবুয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন সিকান্দার রাজা। অভিজ্ঞতার জায়গায় তাঁর সঙ্গে আছেন ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলর। অন্যদিকে ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান ও নিউম্যান নিয়ামহুরির মতো তরুণদের ওপরও থাকবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নতুন বলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের চাপে ফেলতে পারেন ব্র্যাড ইভান্স ও ব্লেসিং মুজারাবানি।
বাংলাদেশ দলে ফিরেছেন ওয়ানডে ক্রিকেটের অধিকাংশ নিয়মিত খেলোয়াড়। তবে চোটের কারণে থাকছেন না পেসার নাহিদ রানা। চলতি মাসের শেষ দিকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে আরও একবার পরীক্ষা করাতে তাঁকে পার্থে পাঠানো হয়েছে।
জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে না থাকায় এবার ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হিসেবে ফিরছেন লিটন দাস। তাঁর নেতৃত্বে একাদশ সাজাতে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। বিশেষ করে এশিয়ান গেমসে টানা দুই ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
লিটনের ফেরার কারণে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসানকে একাদশের বাইরে থাকতে হতে পারে। অন্যদিকে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে নজরকাড়া পারফরম্যান্স এবং সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলামের ওপরও ভরসা রাখতে পারেন অধিনায়ক।
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের হাতে রয়েছে একাধিক বিকল্প। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারের খেলার সম্ভাবনা বেশি। তিন নম্বরে নাজমুল হোসেন শান্তর পর তাওহীদ হৃদয় ও লিটন দাসকে নিয়ে গড়ে উঠতে পারে মধ্যক্রম। নিচের দিকে ব্যাটিং শক্তি বাড়াবেন মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। বিকল্প হিসেবে রয়েছেন সাইফ হাসান ও নুরুল হাসান।
সপ্তাহের শুরুতে টেস্ট ক্রিকেটে রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সের পর লিটনকে ঘিরে প্রত্যাশা বেড়েছে। এক টেস্টে সেঞ্চুরি, হাফ সেঞ্চুরি ও উইকেটরক্ষক হিসেবে নয়টি ডিসমিসালের কীর্তি গড়েছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে উইকেটরক্ষক হিসেবে একই ম্যাচে এমন কীর্তি এই প্রথম।
২০২৬ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটেও ভালো ছন্দে রয়েছেন লিটন। নয় ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ৩০০ রান। অথচ ২০২৪ ও ২০২৫ সালে চরম ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল এই ব্যাটারকে। ওই দুই বছরে ছয় ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ছিল মাত্র ছয় রান। এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দলকে জেতানোই হবে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
২০২৬ সালে ওয়ানডেতে উইকেট শিকারের হিসাবে ইংল্যান্ডের জোফরা আর্চারের কাছাকাছি রয়েছেন জিম্বাবুয়ের ব্র্যাড ইভান্স। তাঁর শিকার ৪৪ উইকেট, আর্চারের চেয়ে পিছিয়ে নয় উইকেটে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ৪৭ রানে চার উইকেট নিয়েছিলেন ইভান্স। এ বছর এই সংস্করণে জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিয়েছেন নয় উইকেট। এর আগে জুলাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষেও পাঁচ উইকেট শিকার করেছিলেন এই পেসার।
চোট কাটিয়ে এ বছর ক্রিকেটে ফেরার পর টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তাই বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য ইভান্স হতে পারেন বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের একাদশে লিটন দাস ফিরলে নুরুল হাসানকে জায়গা ছাড়তে হতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে। এশিয়ান গেমসে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণে একাদশ থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার।
মোস্তাফিজকে শেষ পর্যন্ত দলে না রাখা হলে তাঁর আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই প্রথম বাদ পড়ার ঘটনা ঘটবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ: তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ইসলাম।
জিম্বাবুয়ে: ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান, ইনোসেন্ট কাইয়া, ব্রেন্ডন টেলর (উইকেটরক্ষক), ক্রেইগ আরভিন, সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), রায়ান বার্ল অথবা ওয়েসলি মাধেভেরে, ব্র্যাড ইভান্স, গ্রায়েম ক্রেমার, নিউম্যান নিয়ামহুরি ও ব্লেসিং মুজারাবানি।
জিম্বাবুয়ের হয়ে একাদশে ফিরতে পারেন প্রতিভাবান পেসার নিউম্যান নিয়ামহুরি। অন্যদিকে মধ্যক্রমে রায়ান বার্লকে বিবেচনা করা হতে পারে।
আবুধাবিতে দিবারাত্রির ম্যাচগুলোতে সাধারণত মন্থর উইকেট দেখা যায়। এই মাঠে সর্বশেষ পাঁচটি ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করা দলগুলোর গড় সংগ্রহ ২৬৬ রান। ওই পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই প্রথমে ব্যাট করা দল জয় পেয়েছে। আবুধাবির গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াও দুই দলের খেলোয়াড়দের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
প্রায় দুই দশক পর নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ওয়ানডে ক্রিকেটে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। সর্বশেষ এমন লড়াই হয়েছিল ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে, ভারতের জয়পুরে।
জিম্বাবুয়ে এবারই প্রথম আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে। অন্যদিকে এই মাঠে ছয় ম্যাচ খেলে দুটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। দুই দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ব্রেন্ডন টেলর, যিনি ২০২১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ এই সংস্করণে খেলেছিলেন।
ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিততে হলে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে লিগ পর্বের দুই ম্যাচেই জিততে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের ব্যাটার মোসাদ্দেক হোসেন।
তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই শিরোপা জিততে চাই। তবে সে জন্য জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে লিগ পর্বের দুটি ম্যাচেই জিততে হবে। আমাদের টেস্ট দলের খেলোয়াড়েরা গরমের সঙ্গে বেশ ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। এখানে কয়েক দিন অনুশীলন করেছি। তাই আশা করছি, সন্ধ্যায় কিছুটা বাতাস থাকবে। কারণ, ম্যাচগুলো বিকেলের শেষ ভাগে শুরু হবে।”
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করতে পারলে শিরোপার পথে আত্মবিশ্বাস পাবে বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয়, আবুধাবির মাঠে লিটনের নেতৃত্বে আগের হারের জবাব দিতে পারে কি না টাইগাররা।
মন্তব্য করুন