শারদীয় দুর্গাপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় উৎসব পালনা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করতে দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ থেকে ৭ দিনের সমন্বিত ছুটির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট। এ দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রদীপ কান্তি দে-এর নেতৃত্বে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজীব চন্দ্র সাহা।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর ছাত্র মহাজোটের সভাপতি শাওন অধিকারী, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লিখন সরকার, দপ্তর সম্পাদক তাপস শিকারি, নার্সিং শাখার সভাপতি কল্যাণ বিশ্বাসসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী থেকে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পর্যন্ত পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলবে। এ সময়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদ্যাপন এবং নিজ নিজ এলাকায় যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত ছুটি প্রয়োজন।
সংগঠনটির অভিযোগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে তুলনামূলক দীর্ঘ ছুটি থাকলেও অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র দুই থেকে চার দিনের ছুটি দেওয়া হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পূজার গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতেও ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম চালু থাকে। ফলে একই দেশের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ধরনভেদে ধর্মীয় উৎসব পালনের সুযোগে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।
ধর্মীয় উৎসবের আনন্দে বাধা একাডেমিক চাপ
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পূজার দিনগুলোতে ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা, পুষ্পাঞ্জলি ও ধর্মীয় আচার পালনে বিঘ্ন, দূরবর্তী জেলা থেকে বাড়ি ফেরার ভোগান্তি এবং উৎসবের মধ্যেও একাডেমিক চাপের কারণে মানসিক উদ্বেগ।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রংপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকাসহ বড় শহরের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ছুটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। যানজট ও দীর্ঘ যাত্রাপথ পেরিয়ে বাড়ি পৌঁছানো এবং আবার নির্ধারিত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
নেতৃবৃন্দের মতে, ধর্মীয় উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে পরীক্ষা, কুইজ, উপস্থাপনা কিংবা অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার চাপ শিক্ষার্থীদের উৎসব পালনের স্বাভাবিক সুযোগ সীমিত করে। এতে তাদের মানসিক স্বস্তি ও পড়াশোনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ছাত্র মহাজোটের দুই দফা দাবি
শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় স্মারকলিপিতে দুটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে।
প্রথমত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মহাসপ্তমী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূজার দিনগুলো অন্তর্ভুক্ত করে দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম পাঁচ থেকে সাত দিনের সমন্বিত ছুটি নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
দ্বিতীয়ত, দুর্গাপূজার ছুটির সময়ে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা, কুইজ, উপস্থাপনা কিংবা অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়ার মতো বাধ্যতামূলক একাডেমিক কার্যক্রম না রাখার নির্দেশনা দিতে হবে।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্মীয় উৎসব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা শুধু ছুটির বিষয় নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতি, সমান সুযোগ এবং পারিবারিক বন্ধনকে সম্মান জানানোর বিষয়। তাই শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্গাপূজার ছুটি পুনর্নির্ধারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর নির্দেশনা জারির মাধ্যমে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটির ক্ষেত্রে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট।
মন্তব্য করুন