শনিবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে স্প্যানিশ লিগের ম্যাচে ভিয়ারিয়ালকে ১-০ গোলে হারায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ভিনিসিয়ুস। ৫২ মিনিটে মাঠে নামার প্রায় ২০ মিনিট পরই লাল কার্ড দেখে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়।
ম্যাচে রিয়ালের দ্বিতীয় গোল হয়েছে ভেবে উদ্যাপন শুরু করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের ঠিক আগমুহূর্তে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় নাথান সালিবার চুল টেনেছেন তিনি। এরপর গোলটি বাতিল করার পাশাপাশি ভিনিসিয়ুসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
সতীর্থদের সঙ্গে উদ্যাপনে ব্যস্ত থাকার সময় রেফারি ইসিদ্রো দিয়াজ দে মেরা ভিএআরের পরামর্শে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনা করেন। গোল বাতিল ও লাল কার্ডের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ভিনিসিয়ুস। মাঠ ছাড়ার সময় রেফারির দিকে চিৎকার করতে থাকেন তিনি। এ সময় সতীর্থরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ভিনিসিয়ুসের গোল ভেবে উদ্যাপনে যোগ দিতে ছুটে গিয়েছিলেন কোচ হোসে মরিনিয়োও। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দ বদলে যায় হতাশায়।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিনিসিয়ুস লেখেন, ‘দল ও সমর্থকদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’
চুল টানার ঘটনা নিয়ে ভিয়ারিয়ালের ডিফেন্ডার হুয়ান ফয়েথ বলেন, ‘আমার মনে হয় না, সে কাউকে আঘাত করতে চেয়েছিল। তবে এটি লাল কার্ডের অপরাধ।’
রেফারি দিয়াজ দে মেরা তাঁর ম্যাচ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, লাল কার্ড দেখানোর পর ভিনিসিয়ুস সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন। এ সময় তিনি উচ্চ স্বরে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলছিলেন এবং সতীর্থরা তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের বিধি অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের চুল টানাকে সহিংস আচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লিগের ১৩০ নম্বর ধারায় প্রতিপক্ষকে আঘাত না করে এমন সহিংস আচরণের জন্য এক থেকে তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী তিনটি লিগ ম্যাচ সেভিয়া, বার্সেলোনা ও রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে। ফলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বেশি হলে বার্সেলোনার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত এল ক্লাসিকোতে দর্শক হয়ে থাকতে হতে পারে ভিনিসিয়ুসকে। এটি রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
এদিকে ম্যাচ শেষে বাধ্যতামূলক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হননি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনিয়ো।
মন্তব্য করুন