গ্রিন কার্ড পাইয়ে দিতে নিজের এক নারী সহকারীকে দিয়ে প্রেমিকা ডা. কারিনা শুলিয়াককে সাজানো বিয়ে করিয়েছিলেন মার্কিন ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন। সম্প্রতি প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ নথি ও ই-মেইল থেকে এ তথ্য সামনে এসেছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, বেলারুশের নাগরিক কারিনা শুলিয়াকের সঙ্গে এপস্টেইনের প্রায় আট বছর সম্পর্ক ছিল। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য আবেদন করার সময় শুলিয়াকের শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাখার জন্য এপস্টেইন সাজানো বিয়ের পরিকল্পনা করেন।
২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এপস্টেইনের নির্দেশে তার এক নারী সহকারী নিউইয়র্ক সিটির ম্যারেজ ব্যুরোতে যান। তিন সপ্তাহ পর ওই নারী ও শুলিয়াক আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেন। পরে এপস্টেইনের নিয়োগ করা অভিবাসন আইনজীবী শুলিয়াককে ওই নারীর বৈধ স্ত্রী হিসেবে দেখিয়ে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। আবেদন অনুমোদিত হলে শুলিয়াক যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা পান এবং ২০১৮ সালে নাগরিকত্ব লাভ করেন। এক বছর পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ওই নারী দাবি করেছেন, তাকে জোর করে এই বিয়েতে বাধ্য করা হয়েছিল। এমনকি শুলিয়াকের বহিষ্কার শুনানির মাত্র কয়েক দিন আগে বিয়েটির পরিকল্পনা করা হলেও বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানতেন না বলে দাবি করেন।
প্রকাশিত নথিতে শুলিয়াক ও এপস্টেইনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নানা তথ্য উঠে এসেছে। এপস্টেইন তাকে ‘প্রিয়তমা’ বলে ডাকতেন। শুলিয়াক তার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতেন, এপস্টেইনের অর্থে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন এবং বছরের পর বছর তার কাছ থেকে বিপুল অর্থ পেয়েছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এপস্টেইন শুলিয়াকের পড়াশোনা ও পরিবারের জন্যও অর্থ ব্যয় করেন। এমনকি কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে দন্তচিকিৎসা পড়ার সুযোগ করে দিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে বড় অঙ্কের অনুদান দেন। প্রকাশিত নথিতে ভর্তি পরীক্ষার কিছু প্রশ্ন আগেই জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে।
এপস্টেইনের সম্পত্তির নথিতে ৩৩ ক্যারেটের একটি হীরার আংটির উল্লেখ রয়েছে, যা ‘বিয়ের উদ্দেশ্যে’ দেওয়া হয়েছিল বলে হাতে লেখা একটি নোটে উল্লেখ করা হয়েছে। তার উইল অনুযায়ী, শুলিয়াক সর্বোচ্চ ১০ কোটি ডলার এবং ওই হীরার আংটির উত্তরাধিকারী হতে পারেন।
২০১৯ সালে কারাগারে মৃত্যুর আগে এপস্টেইনের শেষ ফোনালাপও শুলিয়াকের সঙ্গে হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তার সম্পদের একটি বড় অংশ শুলিয়াকের নামে রেখে যাওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তিনি কত অর্থ পাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
প্রকাশিত নথিতে উঠে আসা এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন