গতকাল আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিকান্দার রাজার নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩ ওভার ৪ বলে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এই জয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে রাজা অধিনায়ক হওয়ার পর প্রথম জয় পেল জিম্বাবুয়ে।
আফগানিস্তানকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজে বড় ব্যবধানে হারের কারণে বাংলাদেশের নেট রান রেট নেমে এসেছে মাইনাস ১.৯৮০-এ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন বলেন, ‘২৭০ রান অবশ্যই তাড়া করা সম্ভব ছিল। আমরা সত্যিই ভালো খেলতে পারিনি। আমার মনে হয়, এই রান আমাদের তাড়া করা উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা একটি জুটিও গড়তে পারিনি। মাত্র একটি ভালো জুটি হলেই ম্যাচটি জিততে পারতাম। ব্যাটিংয়ের দিক থেকে আমার মনে হয়, এই ম্যাচটি আমাদের ব্যাটারদেরই জেতানো উচিত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা পারেনি। তবু আমাদের সামনে আরেকটি ম্যাচ আছে।’
ম্যাচের শুরুতে বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথমে বোলিং করতে নেমে জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারে আঘাত হানেন তাসকিন। মাত্র ২৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি।
তবে এরপর ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান। টেলর ১০১ বলে ৮১ রান করেন, আরভিনের ব্যাট থেকে আসে ১০৬ বলে ৯৩ রান। দুজনই সেঞ্চুরি থেকে অল্পের জন্য বঞ্চিত হন। শেষ দিকে নিউম্যান নিয়ামহুরি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজার অপরাজিত ২১ রানের ইনিংস জিম্বাবুয়েকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়।
নিজের বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘আমি তিনটি উইকেট নিই কিংবা পাঁচটি, দল না জিতলে সেসবের কোনো মূল্য নেই।’
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে আশার আলো দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩৮ বলে ৪৬ রান করেন ওপেনার তানজিদ তামিম। তবে দশম ওভারে তাঁর বিদায়ের পর আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহও ছিল তানজিদের।
তাসকিন বলেন, ‘আমরা খুব ভালো শুরু করেছিলাম। এটাও সত্যি যে উইকেটটি ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। তারা দেখিয়েছে, চাপের মধ্যেও ভালো উইকেটে একটি জুটি গড়তে পারলে যেকোনো দলের পক্ষেই ভালো সংগ্রহ করা সম্ভব।’
মাঝের ওভারগুলোতে নিয়মিত রান তুলতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। ডট বলের চাপ বাড়তে থাকায় কয়েকজন ব্যাটার বাজে শট খেলে উইকেট হারান। তাসকিনের মতে, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষেত্রে দলের আরও উন্নতি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘সমস্যাটা ধারাবাহিকতার অভাবে। আমাদের ধারাবাহিকতা ও ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার দক্ষতা বাড়াতে হবে। এই জায়গায় আমাদের ঘাটতি কিছুটা বেশি। কারণ, সবারই দক্ষতা আছে। যারা ক্রিকেট দেখেন, তারা জানেন, আমাদের প্রত্যেক ব্যাটারই ভালো ব্যাটিং করার সামর্থ্য দেখিয়েছে। কিন্তু চাপের মুখে দল হিসেবে আমরা খুব দ্রুত ভেঙে পড়ি।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ২১ অক্টোবর, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। এর আগে আগামীকাল একই মাঠে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান।
মন্তব্য করুন