ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে ঢাকা শহরের নির্দিষ্ট কোনো এলাকাকে পুরোপুরি বা তুলনামূলক নিরাপদ বলা যাবে কি না- এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর নেই বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষ বিশেষজ্ঞরা।তাদের মতে, কোনো এলাকার নিরাপত্তা মূলত নির্ভর করে সেই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং ভবনের নিজস্ব কাঠামোগত মানের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা শহরের নিরাপত্তা ও ঝুঁকির বিষয়টি বুঝতে হলে প্রধানত দুটি দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।
১. শহরের মাটির ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং ২. শহরের সার্বিক অবকাঠামো।
ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার ভূতাত্ত্বিক বিষয়টিকে বর্ণনা করে জানিয়েছেন, ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রায় একই রকম।শহরের বেশিরভাগ অংশ, বিশেষ করে উত্তর দিকের মাটি হলো মধুপুরের লাল মাটি, যেটি প্রাকৃতিকভাবে বেশ শক্ত ও মজবুত।
কিন্তু মোঘল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ পিরিয়ড, পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে উত্তর দিকে এবং বুড়িগঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে শহর খুব দ্রুত সম্প্রসারিত হয় এবং এই শক্ত লাল মাটি পুরোপুরি ভরাট হয়ে যায়।
এরপর আবাসন সংকটে শহর বাড়তে শুরু করে পূর্ব ও পশ্চিমে, যেখানে মূলত নরম পলিমাটি এবং নিচু জলাশয় ছিল যা পরবর্তী সময়ে বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে।
সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানান, শুধু যদি মাটির ভূতাত্ত্বিক গঠন বিবেচনা করা হয়, তাহলে মধুপুরের লাল মাটির একই গড়নের যেসব এলাকা রয়েছে যেমন- রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান, তেজগাঁও ইত্যাদি এলাকা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
|
৪ অগাস্ট, ২০২৬