‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় চার্জগঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।
সোমবার (৪ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীর আসামির অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আদালতে মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অব্যাহতি ও জামিনের আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন।
আদালতের কার্যক্রম চলাকালে মতিউর রহমানকে হাজির করা হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে তার জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
দুদকের করা মামলায় মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক এ মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় সংস্থাটি।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে তিনি ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে নিজ নামে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। ২০২৪ সালে কোরবানির ঈদের আগে ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকা দামের একটি ছাগল কেনার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সেই ঘটনাই ‘ছাগলকাণ্ড’ নামে পরিচিতি পায়।
মন্তব্য করুন