সংবিধান সংস্কার পরিষদকে সংবিধানবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার সরকারি অবস্থান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। সংগঠনটির অভিযোগ, এমন অবস্থানের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সামনে আসা রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলা হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। এর আগে রোববার সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভা বর্জনের কারণও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
হাসনাত কাইয়ূমের দাবি, জুলাই জাতীয় সনদে সংস্কার পরিষদ গঠনের যে অঙ্গীকার রয়েছে, সেটিকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সামাজিক অস্থিরতাকে শুধু বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা হিসেবে দেখলে পরিস্থিতির গভীর কারণ আড়ালে থেকে যাবে। তার মতে, জনগণের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব এবং সংস্কার বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থাকে দুর্বল করছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি বলেন, রাজনৈতিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিনটি দাবি সামনে আনা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সংস্কার পরিষদকে সংবিধানবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত না করা, পরিষদ গঠনের আগে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ চূড়ান্ত না করা এবং সংস্কার বাস্তবায়নে সময়সীমাসহ একটি স্বচ্ছ রোডম্যাপ প্রকাশ করা।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক আস্থা ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মন্তব্য করুন