‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি; আহত উভয় পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী।
ঢাকা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তন ও শহীদ মিনার এলাকায় দফায় দফায় ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, অস্থায়ী হল নির্মাণ এবং মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা ও চিকিৎসক নিয়োগের দাবিতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে সেমিনারে প্রবেশ করতে যান জকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশের সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জকসু নেতাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।
পরে জকসু ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সেমিনার শেষে অতিথিরা বের হওয়ার সময় শহীদ মিনার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়।
ঘটনায় জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ, কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল্লাহ আল ফারুক, জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া অভিযোগ করেন, সেমিনার শেষে শহীদ মিনার এলাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং জকসু ও ছাত্রশক্তির নেতাদের মারধর করে।
অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউজিসি চেয়ারম্যানকে অপমান করার উদ্দেশ্যে কিছু সংগঠন প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাদের সরে যেতে বলা হলেও তারা না শোনায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ছাত্রদলেরও কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিবৃতিতে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উচ্চপর্যায়ের অতিথিদের উপস্থিতিতে এমন সংঘর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, শিক্ষার পরিবেশ ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আজম খানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন