তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের একজন যুগ্মসচিবের হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রকল্পভিত্তিক দায়িত্ব অর্পণকে ঘিরে প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। যুগ্মসচিব মো. সাইফুল হাসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, স্বার্থের সংঘাত এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে একাধিক পদে দায়িত্ব গ্রহণের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও অভিযোগকারীরা। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই মো. সাইফুল হাসান আইসিটি বিভাগের প্রশাসন অধিশাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও কারিগরি), সদস্য (বিনিয়োগ ও পার্ক সমন্বয়) এবং ১৪ জেলায় আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তার ওপর আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (চলতি দায়িত্ব) দায়িত্বও অর্পণ করা হয়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, একই ব্যক্তির হাতে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক তদারকি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ নির্বাহী দায়িত্ব থাকায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাদের দাবি, এসব দায়িত্ব বণ্টনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াতেও সংশ্লিষ্ট অধিশাখার প্রধান হিসেবে মো. সাইফুল হাসান নিজেই সম্পৃক্ত ছিলেন, যা স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আইসিটি টাওয়ারে একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কর্মরত থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো একজন কর্মকর্তার কাছেই কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। এতে অন্যান্য কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ সীমিত হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের অভিমত।
এছাড়া দায়িত্ব গ্রহণের পর অফিস কক্ষ সংস্কার ও সাজসজ্জায় সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আগে থেকেই ব্যবহারযোগ্য অফিস কক্ষ থাকা সত্ত্বেও পুনরায় সংস্কার ও সাজসজ্জায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশ সফর, বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের মতে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যুগ্মসচিব মো. সাইফুল হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের দায়িত্বশীল মহলের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন আরও সুদৃঢ় হবে।
প্রসঙ্গত, এ প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারীদের বক্তব্য ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন