মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি দীর্ঘদিন পর প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর আটক হওয়ার পর এটাই তার প্রথম প্রকাশ্য বিদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার মিয়ানমারের রাজধানী নাইপিদোতে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) মিয়ানমার আবাসিক প্রতিনিধি আর্নো দ্য বেক–এর সঙ্গে সু চির সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র খাইন খাইন সোয়ে টেলিগ্রামে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পরে আইসিআরসিও এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের একজন প্রতিনিধি সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে ওই প্রতিনিধির নাম প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।
আইসিআরসি জানিয়েছে, বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করেই এই বৈঠক করা হয়েছে। এ সময় সু চির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার সুযোগ ছিল এবং আটক ব্যক্তিরা পরিবারের কাছে বার্তা পাঠানোর সুযোগও পেয়ে থাকেন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়। এরপর থেকেই তাকে আটক রাখা হয়েছে। তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা উদ্বেগ থাকলেও নির্ভরযোগ্য তথ্য খুব কমই প্রকাশ্যে এসেছে।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে সু চিকে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে একটি সাধারণ কক্ষে আইসিআরসি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে। আরেকটি ছবিতে তাকে নিজের নাম লেখা জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। তবে ছবিগুলোর স্থান ও সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
অভ্যুত্থানের পর একাধিক গোপন বিচারে সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নির্বাচনী জালিয়াতিতে উসকানি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের মতো অভিযোগ আনা হয়। এসব মামলায় প্রথমে তাকে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও পরে তা কমিয়ে ২৭ বছর করা হয়।
চলতি বছরের এপ্রিলে আরও সাজা কমানোর পর বর্তমানে তার ১৮ বছরের সাজা বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী দলের এক সদস্য।
সু চির রাজনৈতিক সহযোগীরা বরাবরই দাবি করে আসছেন, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সু চির ছেলে কিম অ্যারিস আগে জানিয়েছিলেন, বহু বছর ধরে তিনি সরাসরি মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। তার স্বাস্থ্য নিয়ে হৃদ্রোগ, হাড় ও মাড়ির সমস্যার মতো উদ্বেগের কথাও তিনি প্রকাশ করেছিলেন।
যদিও মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার দাবি করে আসছে, সু চি সুস্থ আছেন। তবে তার প্রকৃত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের চাপ অব্যাহত রয়েছে।
গত এপ্রিলে সামরিক-সমর্থিত নির্বাচনের পর কর্তৃপক্ষ জানায়, সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় নেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন এখনও অনীহা দেখাচ্ছে।
মিয়ানমারের স্বাধীনতার স্থপতি জেনারেল অং সানের কন্যা অং সান সু চি এর আগে সামরিক শাসনের সময় প্রায় ১৫ বছর গৃহবন্দি ছিলেন। গণতন্ত্র আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই নেত্রী বর্তমানে দেশটির রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
মন্তব্য করুন