বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা জয় চৌধুরী।
শনিবার (৪ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টায় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে। এর আগে শুক্রবার সকাল থেকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ব্যালট বাক্স সিলগালা করে ভোট গণনা শুরু হয়। দীর্ঘ গণনা শেষে শনিবার ভোরে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচন কমিশন জানায়, মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে শিবা সানু ২৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পান ১৭৩ ভোট।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী ২৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পান ১৭৯ ভোট।
সহ-সভাপতি পদে ডিএ তায়েব (২৬০ ভোট) এবং ইলিয়াস কোবরা (২১৬ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে নূতন পেয়েছেন ২০৪ ভোট এবং রোজিনা পেয়েছেন ১৫২ ভোট।
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ২৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সুব্রত। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিনা খান পেয়েছেন ১৫০ ভোট।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান ২৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী চুন্নু পেয়েছেন ১৮২ ভোট।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ২৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন পারভেজ চৌধুরী আবির। একই পদে পপি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট।
দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে ২২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জ্যাকি আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাসেল মিয়া পেয়েছেন ১৯৫ ভোট।
সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব ২২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ পদে ইউসুফ খান পেয়েছেন ৭২ ভোট এবং মুশফিকুল জামিল পেয়েছেন ১১৮ ভোট।
কোষাধ্যক্ষ পদে ২২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন কামরুজ্জামান কমল। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাদু আজাদ পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।
এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আলী রাজ, কাবিলা, কায়েস আরজু, জেসমিন, নাসরিন, ফরহাদ, শিপন মিত্র, রাকা, চিকন আলী, শিরিন শিলা এবং সুশান্ত।
এবারের নির্বাচনকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিএফডিসি প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। নির্বাচনে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। একদিকে ছিল আরমান–মুক্তি পরিষদ, অন্যদিকে শিবা সানু–জয় চৌধুরী পরিষদ। প্রচার-প্রচারণা, প্যানেল পরিচিতি এবং ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে পুরো চলচ্চিত্রাঙ্গন ছিল সরগরম।
মন্তব্য করুন