নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৩৯ জন

নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট মা, তিন সন্তানের নিরাপত্তা দাবি

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আক্তার। একই সঙ্গে নিজের ও তিন সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্টের রায় ঘোষণার খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নুসরাতের মা। পরে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুসরাত আত্মহত্যা করেছিলেন—এমন প্রচারণা চালানো হলেও হাইকোর্টের রায়ে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিরিন আক্তার বলেন, নুসরাতকে হত্যার বিষয়টি আজকের রায়ের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে ও তার সন্তানদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি।

দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে করা ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় সোমবার ঘোষণা করেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ।

রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। তারা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

এ ছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি এবং জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।

অন্যদিকে ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের পরিবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর মামলা তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারকে চাপ দেওয়া হয়।

মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

নিম্ন আদালতের রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল হাইকোর্টে আসে। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার উচ্চ আদালত রায় ঘোষণা করেন। এতে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের যাবজ্জীবন এবং ১০ জনের খালাসের আদেশ দেওয়া হয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানীতে তিন বাসে আগুন, যাত্রাবাড়ীতে পরপর ৪ ককটেল বিস্ফোরণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ছয় মাসের সাফল্য’ নিয়ে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

ট্রাম্পের বৈঠকের তালিকায় নেই নেতানিয়াহু, অনিশ্চিত সাক্ষাৎ

আসিয়ান কাপে বড় কিছুর প্রত্যাশা জামালের, লক্ষ্য পরের রাউন্ড

আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা? রহস্য উদঘাটনের দাবি পুলিশের, দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

ঢাকাজুড়ে কড়া নজরদারি, চেকপোস্টে সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি

সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কর্মসূচিতে ঠাসা তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে নেই নির্দেশনা

১০

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ালেন ট্রাম্প

১১

‘বাইরের কেউ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ঠিক করে দিতে পারে না’: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১২

তিতাসের ২৮ নম্বর কূপে মিলবে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

১৩

গণভোটের রায় না মানলে এক দফার আন্দোলন’: মামুনুল হক

১৪

‘জাতির প্রয়োজনে আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে’: শফিকুর রহমান

১৫

টিসিবি কার্ড থেকে বাদ ৫৯ লাখ অযোগ্য সুবিধাভোগী

১৬

‘মানুষ যে ধরনের আইন চায়, সরকার সে ধরনের আইনই করবে’: আইনমন্ত্রী

১৭

‘শারীরিক ও মানসিক—সব দিক থেকেই প্রতারণার শিকার হয়েছি’: ঈশা রিখী

১৮

‘ছট মাইয়া’র গানের দৃশ্য দেখে পুরোহিত খুশি, জানালেন তামান্না

১৯

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হলেন আবুল খায়ের

২০