টানা ভারী বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সাতক্ষীরা, ভোলা ও শেরপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ১০ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার, যেখানে ৯ লক্ষাধিক মানুষ বন্যাকবলিত। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে এক কিশোরের প্রাণহানি ঘটেছে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে রয়েছে। বহু পরিবার কয়েকদিন ধরে রান্না করতে পারছে না, বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার সাতটি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অন্যদিকে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামু ও মাতামুহুরী এলাকায় নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। মেহেরনামায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে শতাধিক গ্রাম পানির নিচে চলে গেছে। বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।
রাঙামাটিতে অন্তত ৩০ হাজার, ভোলার মনপুরায় ২০ হাজারের বেশি, আর সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন সড়ক এখনও পানির নিচে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
বন্যায় চট্টগ্রামের মৎস্য খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে ৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার মাছের খামার প্লাবিত হয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০৫ টন মাছ ও ৪৮ লাখের বেশি পোনা ভেসে গেছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী কয়েকদিন বন্যার পরিস্থিতির উন্নতি বা আরও অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র, ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন