নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক তরুণ রাইডশেয়ার মোটরসাইকেল চালকের আত্মাহুতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আন্দোলনে রাজপথে নেমেছে তরুণ প্রজন্ম ‘জেন-জি’, আর জনরোষের মুখে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর সরকার।
নেপালের সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, ২৫ বছর বয়সী রাইডশেয়ার চালক গণেশ নেপালি পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে নিজের শরীরে আগুন দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপরই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সরকারি স্থানে মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের অভিযোগে কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন পুলিশ তার বাইকে হুইল লক লাগিয়ে এক হাজার নেপালি রুপি জরিমানা আদায়ের চেষ্টা করে। জরিমানা দিতে অপারগতার কথা জানালেও পুলিশ চাপ সৃষ্টি করলে একপর্যায়ে তিনি আত্মাহুতির পথ বেছে নেন।
রোববার শত শত বিক্ষোভকারী সিংহদরবার সচিবালয়ের সামনে জড়ো হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তাদের অভিযোগ, মেট্রোপলিটন পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র মানুষ, পথের হকার, দিনমজুর ও বস্তিবাসীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি, অবৈধ গ্রেপ্তার বন্ধ এবং উচ্ছেদ হওয়া বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।
ঘটনাটি নিয়ে নেপালের পার্লামেন্টেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের সমালোচনা করেছে। বাড়তে থাকা চাপের মুখে সরকার পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন নেপাল পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল গোবিন্দ থাপলিয়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, গত বছরের জেন-জি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন বালেন্দ্র শাহ নিজেই। সেই আন্দোলনের ঢেউয়ে ক্ষমতায় এলেও মাত্র এক বছরের ব্যবধানে একই তরুণ সমাজের একাংশ এখন তার সরকারের বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নেমেছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, গণেশ নেপালির মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ নেপালের রাজনীতিতে নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে। এখন সবার নজর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
মন্তব্য করুন