কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। শিলং হয়ে কলকাতায় পৌঁছে তিনি পশ্চিমবঙ্গের তপসিয়া এলাকার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, বাংলাদেশে থাকা নানকের ব্যবসা ও সম্পদ থেকে অর্জিত অর্থ অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে নিয়মিত ভারতে পাঠানো হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে নানকের সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনী হলফনামায় তাদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৯ কোটি টাকা দেখানো হয়।
তবে প্রতিবেদনের দাবি, হলফনামায় উল্লেখ করা সম্পদের বাইরেও নানক পরিবারের বিপুল সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে বরিশালের নথুল্লাবাদে ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, দোয়ারিকা সেতু এলাকায় প্রায় ৮ একর জমি, বরিশর নগরীতে বাড়ি ও মাছের খামার, ঢাকার কলাবাগান, উত্তরা ও মোহাম্মদপুরে ভবন এবং কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নানকের বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন বাড়ি, জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত আয় হচ্ছে। এসব আয়ের একটি অংশ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানক নিজেই ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ এবং পরে শিলং হয়ে কলকাতায় যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনায় মেয়ের স্বামী চিকিৎসক নাজমুলের ভূমিকা ছিল বলেও সেখানে দাবি করা হয়েছে।
কলকাতায় পৌঁছানোর পর নানক স্ত্রীকে নিয়ে তপসিয়া এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ওঠেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেখানে অবস্থান করেই তিনি বিলাসী জীবনযাপন করছেন এবং বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে তার কাছে অর্থ পৌঁছাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশালের সদর রোড ও কাঠপট্টি এলাকার দুই হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে নানকের কাছে অর্থ পাঠানো হয়। অন্যদিকে ঢাকার বিভিন্ন সম্পদ ও ব্যবসার আয় পশ্চিমবঙ্গে পাঠাতে বেনাপোল সীমান্ত এলাকার একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের মালিককে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ কার্যক্রম নানকের এক ছোট ভাই দেখভাল করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশে ফেরা আওয়ামী লীগের এক কর্মীর বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্ধারিত এজেন্টরা তপসিয়ার ফ্ল্যাটে গিয়ে নানকের কাছে হুন্ডির টাকা পৌঁছে দেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নানকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার পরিচিত বিভিন্ন ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
মন্তব্য করুন