দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনে সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা পর্যায়ক্রমে ভোট দিচ্ছেন।
ভোটগ্রহণের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোট দেন। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তারা ভোট দেওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এরপর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন। পরে মির্জা ফখরুল নিজেও ভোট দেন। ভোট দেওয়ার পর তিনি বিরোধীদলীয় সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ভোটগ্রহণের আগে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন বক্তব্য দেন। শুরুতেই মাইক বিভ্রাটের মুখে পড়লেও পরে তিনি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নিয়মাবলি সংসদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন।
সিইসির বক্তব্যের পর সংসদ সদস্যরা ভোট দেওয়া শুরু করেন। ইতোমধ্যে সেলিমা রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নিপুণ রায় চৌধুরী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আমানউল্লাহ আমানসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন।
সংসদকক্ষের মাঝামাঝি স্থানে ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা পর্যায়ক্রমে সেখানে ব্যালট জমা দিচ্ছেন।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্যরাও ভোট দিচ্ছেন। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও আখতার হোসেনসহ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা একে একে ভোট দিচ্ছেন।
ভোট দেওয়ার পর সরকারদলীয় অনেক সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন সদস্য ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে অসুস্থতা ও চিকিৎসাজনিত কারণে বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস ভোট দিতে পারছেন না।
ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভোটকেন্দ্রে তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছে। ভিড় এড়াতে সংসদ সদস্যদের পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার দেওয়া হচ্ছে। ব্যালট পেপারে দুই প্রার্থীর নাম রয়েছে। পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্সে তা জমা দিচ্ছেন সংসদ সদস্যরা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনী কর্তা হিসেবে পুরো ভোটগ্রহণ পরিচালনা করছেন। নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালন করছেন।
বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্স খোলা হবে। এরপর প্রকাশ্যে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
মন্তব্য করুন