যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তার সফরের বিষয়টি জানানো হয়।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন সার্জিও গোরকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তার এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
সফরের প্রথম দিনে সার্জিও গোর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া শুক্রবার তার কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক অবস্থানের প্রেক্ষাপটে সার্জিও গোরের এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফর, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান নিয়ে ওয়াশিংটনের আগ্রহের মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্জিও গোর হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় সফরকারী তৃতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এর আগে মার্চে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেন।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সার্জিও গোরের সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে কীভাবে দেখছে, সেটিও আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রয়োজনে সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তাও বাংলাদেশের নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন সার্জিও গোর।
২০২৫ সালের আগস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও হোয়াইট হাউসের সাবেক কর্মকর্তা সার্জিও গোরকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন।
বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি ওয়াশিংটনের দক্ষিণ এশিয়া নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ভারতকে কেন্দ্র করে তিনি বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। তার ঢাকা সফরও সেই আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন