বিজয়ী চার বাংলাদেশি-আমেরিকান হলেন—আবুল খান, শেখ রহমান, মাসুদুর রহমান ও হাসিব ফাতেমী। তাঁদের মধ্যে একজন রিপাবলিকান পার্টি এবং বাকি তিনজন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ছিলেন।
রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে নিউ হ্যাম্পশায়ার স্টেটের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন পিরোজপুরের সন্তান আবুল খান। তিনি সপ্তমবারের মতো এ পদে জয় পেয়েছেন।
অন্যদিকে, জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী শেখ রহমান পঞ্চম মেয়াদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের সন্তান।
কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৪ থেকে তৃতীয় মেয়াদে জয় পেয়েছেন চাঁদপুরের সন্তান মাসুদুর রহমান। ডেমোক্রেটিক পার্টির এ প্রার্থী এবারও বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
এ ছাড়া নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-১৮ থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন গাজীপুরের সন্তান হাসিব ফাতেমী।
এদিকে ভার্জিনিয়া স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৩৭-এর দায়িত্বে রয়েছেন নোয়াখালীর সন্তান সাদ্দাম আজলান সেলিম। ডেমোক্রেটিক পার্টির এ রাজনীতিক ২০২৪ সালে নির্বাচিত হন। আগামী বছর ওই আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয় এবং স্থানীয় নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন প্রবাসীরা।
ব্রঙ্কসে বসবাসরত মূলধারার রাজনীতিক শাহজাহান শেখ বলেন, গত দুই বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের জবাব ভোটের মাধ্যমে দিয়েছেন মার্কিন ভোটাররা। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনী ফলাফল রাজনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা করছেন। কঠোর পরিশ্রমী আমেরিকানদেরও এমনটাই প্রত্যাশা।
আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে কাজ করা ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড গ্লোবাল ক্যাম্পাসের অধ্যাপক ফাইজুল ইসলাম বলেন, মিথ্যাচার ও ভণ্ডামি বেশিদিন টিকে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড ও নীতির কারণে আমেরিকানদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন ঘটেছে নির্বাচনের ফলাফলে।
অধ্যাপক ফাইজুলের মতে, ট্রাম্পের কারণে রিপাবলিকান পার্টির অবস্থান দুর্বল হয়েছে। এখন দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। এ জন্য ট্রাম্পকে দলীয় রাজনীতির কেন্দ্র থেকে দূরে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
মন্তব্য করুন