সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি এখনো বাস্তব কার্যকারিতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপত্তা নীতি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাই। তাঁর মতে, চুক্তিটির রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকলেও এটি আপাতত ‘কাগজে লেখা কালির’ মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
পুস্তাইয়ের যুক্তি, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলার পরও তুরস্ক বা পাকিস্তানের সেনাদের দেশটিতে মোতায়েন হতে দেখা যায়নি। ফলে সংকটের সময় চুক্তিটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
তিনি বলেন, হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পরও সৌদি আরবে পাকিস্তানি বা তুর্কি সেনা মোতায়েনের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময়ও তুরস্কের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পুস্তাইয়ের মতে, কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করে সংকটের মুহূর্তে সেটি কতটা বাস্তবে প্রয়োগ করা যায় তার ওপর। শুধু পারস্পরিক প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি থাকলেই একটি চুক্তি কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থায় পরিণত হয় না।
তিনি বলেন, তিন দেশের ভূখণ্ডে যদি বাস্তবে কোনো সেনা উপস্থিতি না থাকে কিংবা সৌদি আরব আক্রান্ত হলে সেখানে অবস্থানরত পাকিস্তানি ও তুর্কি সেনারা সরাসরি হামলার শিকার না হন, তাহলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
একটি কার্যকর সামরিক জোটের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি প্রয়োজন বাস্তব সামরিক সমন্বয়, সেনা মোতায়েন, যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এবং সংকটের সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা—মত পুস্তাইয়ের।
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
তবে পুস্তাইয়ের মন্তব্য অনুযায়ী, চুক্তিটির রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকলেও এর প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা এখনো বড় কোনো সংকটের মধ্য দিয়ে পরীক্ষিত হয়নি।
ফলে ভবিষ্যতে সৌদি আরব বড় ধরনের সামরিক হামলার মুখে পড়লে তুরস্ক ও পাকিস্তান কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটিই হবে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব কার্যকারিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
সূত্র: আল-জাজিরা
মন্তব্য করুন