আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৯ জন

ইরান যুদ্ধের পর প্রথমবার ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক, মধ্যপ্রাচ্য সংকটেই মূল ফোকাস

ইরান, গাজা, লেবানন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা; দুই নেতার সম্পর্ক নিয়ে জল্পনার মধ্যেই ওয়াশিংটনে মুখোমুখি বৈঠক।


ইরান যুদ্ধের পর প্রথমবার মুখোমুখি ট্রাম্প-নেতানিয়াহু

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন নেতানিয়াহু। বৈঠকে ইরানের পাশাপাশি গাজা, লেবানন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপের পর ইরানকে কেন্দ্র করে যে সংঘাত শুরু হয়, সেটিই এবার আলোচনার মূল বিষয়। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, তারা এখন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধানের পথ খুঁজছে।

চলতি মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলেও, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে ইসরায়েল সরাসরি অংশ নেয়নি।

ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফেরার পর এটি হবে দুই নেতার অষ্টম বৈঠক এবং ইরান যুদ্ধের পর প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।

‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইরান’

যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হওয়ার আগে নেতানিয়াহু বলেন,

“আলোচনার সূচিতে থাকা সব বিষয় নিয়েই আমরা কথা বলব। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইরান। একই সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য হবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আমাদের চারপাশে শান্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করা।”

তিনি আরও বলেন,

“প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এমন জটিল সময়ে দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞা—দুটো নিয়েই এগোতে হয়।”

মতবিরোধ থাকলেও লক্ষ্য একই?

এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কে টানাপোড়েনের খবর সামনে আসে। সে সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন এবং এক সাক্ষাৎকারে তাকে “খুবই কঠিন একজন ব্যক্তি” বলেও মন্তব্য করেন।

তবে নেতানিয়াহু বিষয়টিকে “কৌশলগত মতপার্থক্য” বলে উল্লেখ করে জানান, যুদ্ধের মূল লক্ষ্য নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।

গাজা ও লেবাননও আলোচনায়

মঙ্গলবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হবে। যদিও মাঠপর্যায়ে সেই চুক্তি বাস্তবায়ন এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে।

এছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পরিস্থিতি এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হতে পারে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা ইসরায়েল-হামাস সংঘাতে গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

‘সম্পর্কে কোনো ভাঙন নেই’

জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ইয়োনাতান ফ্রিম্যান মনে করেন, এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করা।

তার ভাষায়,

“বিশ্বকে, বিশেষ করে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশকে দেখানোই মূল লক্ষ্য যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কে কোনো ভাঙন বা বড় ধরনের মতবিরোধ নেই।”

তিনি আরও বলেন, দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য মূলত যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়ে। তবে যুদ্ধের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের অবস্থান প্রায় একই।

আব্রাহাম চুক্তি ও আঞ্চলিক কূটনীতি

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অগ্রাধিকার থাকবে দুটি বড় ইস্যুতে—ইরান এবং আব্রাহাম চুক্তি আরও সম্প্রসারণ।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং পরে মরক্কোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, বৈঠকে লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি ধীরে ধীরে কমানোর বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর কূটনৈতিক পরীক্ষা

নেতানিয়াহুর এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন আর কয়েক মাস দূরে। তিনি আবারও ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নিতে চান।

তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তিনি জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে রয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা প্রতিরোধে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে জনঅসন্তোষ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। সেই হামলার পর থেকেই শুরু হয় গাজা যুদ্ধ, যার প্রভাব এখনো পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিদ্যমান।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এক কর্মকর্তার হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, আইসিটি বিভাগে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে প্রশ্ন

গাজীপুরের পূবাইলে সাংবাদিকের পৈত্রিক জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

জবি বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যাত্রা শুরু, আহ্বায়ক দিদার, সদস্য সচিব রাতুল

বাড়তি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভ তাসনিম জারার, ‘হুমকি নয়, গ্রাহকদের জবাব দিন’

ইরানের প্রেসিডেন্টের ‘পদত্যাগ’ গুঞ্জন উড়িয়ে দিল তেহরান, ‘মিথ্যা’ বলছে প্রেসিডেন্টের দপ্তর

জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৬ আগস্ট থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জবিতে ছাত্রদল-জকসু-ছাত্রশক্তির সংঘর্ষ, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন

‘আমার বাসার বিদ্যুৎ বিলও অস্বাভাবিক বেড়েছে’: আজহারীর অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

সৌদি যুবরাজের কূটনৈতিক উদ্যোগে ইরানে নতুন হামলা স্থগিত ট্রাম্পের, আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো

১০

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ ঘিরে দেশজুড়ে র‌্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা: নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সাইবার পেট্রোলিং জোরদার

১১

বন্যাদুর্গত চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সফর ৯ আগস্ট: ত্রাণ বিতরণ ও ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি

১২

শতাধিক প্রাণহানির মধ্যেও ‘মার্চ টু ঢাকা’র প্রস্তুতি: রাজধানীমুখী জনস্রোতে আন্দোলনের চূড়ান্ত অধ্যায়

১৩

গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নিহত ২ ক্রু সদস্য

১৪

‘৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সক্ষমতা নেই আ. লীগের’, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

১৫

‘চীন সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু থাকবে’, ঢাকায় রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অঙ্গীকার

১৬

‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত মতিউরের বিরুদ্ধে চার্জগঠন, দুর্নীতি মামলায় বিচার শুরু

১৭

অভ্যুত্থানের পর প্রথমবার বিদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে সু চির সাক্ষাৎ, স্বাস্থ্য নিয়েও বাড়ছে নজর

১৮

অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে রোনালদো-জর্জিনা, মাদেইরায় বসছে জমকালো আয়োজন

১৯

হরমুজ ইস্যুতে আজ থেকেই নতুন দফার আলোচনা, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আপাতত স্থগিত: ট্রাম্প

২০